
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুবদল কর্মী তারেক হোসেনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন এ হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন। গত শনিবার রাতে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মো. মাসুদ আলম বলেন, স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে আরিফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীরা তারেককে গুলি করে হত্যা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলবার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধীর কোনো দলীয় পরিচয় নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন আরিফ হোসেনের সহযোগী ফখরুল ইসলাম, আবদুল মান্নান, আরিফুল ইসলাম ও মো. ইফতেখার।
গত শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড় এলাকায় তারেক হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা মো. ইমন গুলিবিদ্ধ হন। নিহত তারেক উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মধ্যম মাহদাবাদ এলাকার বাসিন্দা কুরবান আলীর বাড়ির মৃত আলী আহমদের ছেলে। আহত ইমন একই এলাকার ইউসুফের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, রাতে খাবার খেয়ে তারেক তাঁর বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। ইমনকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন তারেককে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। অন্যরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন।
এ সময় ইমন কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে তারেকের বুকে গুলি করা হয়। আরেকজনও তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে তারেক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
গুলির শব্দ শুনে কাছাকাছি থাকা তাফসির আলম তারেককে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তিনিও হামলার শিকার হন। তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তারেক ও তাফসির দুজনই গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকেন। হামলাকারীরা তাঁদের ওপর আরও আঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাঁরা পালিয়ে যান।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, স্ক্র্যাপ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরেও এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এসব বিষয় স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরিফসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড এলাকায় আড়াই শতাধিক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদনপ্রক্রিয়া শেষে অবশিষ্ট, বাতিল বা অব্যবহৃত ধাতব অংশ স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি হয়। এসব স্ক্র্যাপের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন সময়ে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।