পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে আট কেজি ওজনের এই কালো পোয়া মাছটি ধরা পড়ে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর মৎস্যবন্দরে
পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে আট কেজি ওজনের এই কালো পোয়া মাছটি ধরা পড়ে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর মৎস্যবন্দরে

৮ কেজির কালো পোয়া মাছ বিক্রি হলো ৪০ হাজার টাকায়

পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে আট কেজি ওজনের একটি কালো পোয়া মাছ। স্থানীয়ভাবে মাছটি ‘কালো দাতিনা’ নামে পরিচিত। গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে এফবি মিম ট্রলারের জেলে সিদ্দিকুর রহমান বঙ্গোপসাগরে জাল ফেলেন। জালে অন্যান্য মাছের সঙ্গে কালো পোয়া মাছটিও ধরা পড়ে।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাছটি কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর মৎস্যবন্দরের মেসার্স সাগর ফিস আড়তে আনা হয়। সেখানে খোলাবাজারে ডাকের মাধ্যমে প্রতি কেজি পাঁচ হাজার টাকা দরে মাছটি ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মাছটির ক্রেতা আলীপুর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী পি এস মুসা বলেন, মাছটি তিনি আরও বেশি দামে বিক্রি করতে চান। এর আগে গত বুধবার সাড়ে চার কেজি ওজনের একটি কালো পোয়া মাছ তিনি ৭২ হাজার টাকায় কিনেছিলেন বলে জানান।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিকস বিভাগের অধ্যাপক রাজীব সরকার বলেন, কালো পোয়া মাছ সর্বোচ্চ ৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তবে এই মাছ বাংলাদেশের উপকূলে সাধারণত ৩৫ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি আকারের বেশি পাওয়া যায়। ছোট কাঁকড়া, চিংড়ি, মাছ, শামুক-ঝিনুক ও পানির তলদেশের বিভিন্ন সামুদ্রিক কৃমি এদের প্রধান খাবার। শক্ত চোয়ালের কারণে খোলসযুক্ত কাঁকড়া ও চিংড়িও এরা সহজে খেতে পারে।

অধ্যাপক রাজীব সরকার আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও উপকূলীয় পরিবেশদূষণের কারণে মাছটির প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র হুমকির মুখে পড়ছে। সমুদ্র অর্থনীতির বিকাশ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে কালো পোয়ার কৃত্রিম প্রজনন ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করাও জরুরি।

পোয়া মাছের বায়ুথলি থেকে প্রসাধনী, ওষুধ ও সুতা তৈরির উপকরণ পাওয়া যায় উল্লেখ করে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ মাছ রপ্তানি হয়। তিনি জানান, গত ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা ছিল। এর সুফল হিসেবে জেলেদের জালে এখন এ ধরনের মাছ তুলনামূলক বেশি ধরা পড়ছে। এতে জেলেরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।