ফেনীতে স্পিড ব্রেকারে গতি কমিয়ে দেওয়া যানবাহনের জটলায় একাধিক দ্রুতগতির বাসের পরপর ধাক্কায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি স্লিপার বাসের সুপারভাইজার, একজন বাসযাত্রী ও একজন মোটরসাইকেল আরোহী রয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত আরও পাঁচজন। আজ রোববার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার রামপুরের চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আজ বেলা ১১টায় হাইওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী আজ ভোর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রামমুখী একটি লেন বন্ধ রেখে সংস্কারকাজ করছিল সড়ক ও জনপদ বিভাগ। সংস্কারকাজ চলার কারণে সড়কটিতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আজ ভোর চারটার দিকে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে সেখানে স্থাপন করা স্পিড ব্রেকার পার হচ্ছিল। এ সময় পেছনে থাকা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের চালকের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স চালকের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। এ ঘটনায় সেখানে যানবাহনের জটলা তৈরি হয়। ওই জটলায় কয়েকটি দ্রুত গতির বাস পরপর ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। গুরুতর আহত হন ছয়জন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁদের একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চারটি বাস ও দুটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই ব্যক্তির নাম জানা গেছে। একজন হলেন ঢাকার লালবাগ এলাকার সোহাগ (২৩) ও বাংলামোটর এলাকার মো.মোরশেদ (৩৮)।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আবদুর রহমান জানান, মহাসড়কের রামপুর এলাকায় সেতু মেরামতে নিয়োজিত ঠিকাদার ও সড়ক বিভাগের গাফিলতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে স্পিড ব্রেকার দিলেও দুর্ঘটনার সময় তদারকিতে ছিল না।
মহিপাল হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট কাজল কান্তি নাথ জানান, নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের একজনের পরিচয় জানা যায়নি। পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে।
মহিপাল হাইওয়ে থানা-পুলিশের ইনচার্জ আসাদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় চারটি বাস ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা চলমান। দুর্ঘটনার পর যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
ফেনী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানান, আজ থেকে মহাসড়কের রামপুর ব্রিজের মেরামতের কাজ শুরু হবে। ওই স্থানে গতি কমাতে স্পিড ব্রেকার দেওয়া হয়েছিল আরও ১৫ দিন আগে। স্পিড ব্রেকারে সাদা রং দিয়ে দাগ দেওয়া হয়েছে। সড়ক মেরামতের জন্য গতিনিয়ন্ত্রণে সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।