নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় বাবার জন্য খাবার পৌঁছে দিতে গিয়ে মেঘনা নদীতে নিখোঁজ হওয়া ছয় বছর বয়সী শিশু তামিমের লাশ দীর্ঘ ২৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। আজ বুধবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের চর আতাউরের দক্ষিণে মেঘনা নদী থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম চরচেঙ্গা গ্রামের পাশের মেঘনা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তামিম ওই গ্রামের জেলে শাহাদাত হোসেনের ছেলে।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গতকালও মাছ ধরতে মেঘনা নদীতে যান শাহাদাত হোসেন। দুপুরে বাবার জন্য খাবার নিয়ে নদীর তীরে যায় তামিম। খাবার খাওয়ার পর শাহাদাত নদীর পাড়ে উঠে চা পান করছিলেন। এ সময় তামিম তার সমবয়সী এক চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে নদীর তীরে খেলাধুলা করছিল। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে নদীতে পড়ে যায়। বিষয়টি দেখে সঙ্গে থাকা চাচাতো ভাই দৌড়ে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে স্বজনেরা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি।
এরপর আজ সকালে ভোলা থেকে আসা ডুবুরি দল মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের চর আতাউরের দক্ষিণে মেঘনা নদী থেকে কোস্টগার্ড তামিমের মরদেহ উদ্ধার করা করে। পরে লাশ শিশুটির স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হাতিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের নিজস্ব কোনো ডুবুরি দল না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। পরে আজ বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে কোস্টগার্ড শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।