
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতি মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। এর প্রতিবাদে ‘জুলাই গ্রাফিতি অঙ্কন’ কর্মসূচি পালন করেছে দলটি।
আজ রোববার সন্ধ্যায় নগরের টাইগার পাস এলাকায় চসিক কার্যালয়ের প্রবেশমুখের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে দুপুরে শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়কের পিলারে আঁকা জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা।
এদিকে এনসিপির নেতা-কর্মীদের অবস্থানের খবর পেয় সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও অবস্থান নিতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান আজ রাত সোয়া ১১টায় প্রথম আলোকে বলেন, এনসিপি ও বিএনপির লোকজনকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত।
নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমানও বলেন, তাঁদের দলের কেউ সেখানে নেই।
এনসিপির নেতারা জানান, টাইগার পাস এলাকায় সিটি করপোরেশনের প্রবেশফটকের সামনে অন্তত চারটি পিলারের গ্রাফিতির ওপর সাদা ও হলুদ রং করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এনসিপির নেতারা দাবি করেন, সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে এসব গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিকেল থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। তবে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় চসিকের জনসংযোগ শাখা। এতে বলা হয়, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেনের নির্দেশে নগরের কোথাও জুলাইয়ের গ্রাফিতি অপসারণের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মেয়রের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কোনো শিল্পকর্ম, শিক্ষামূলক বা সামাজিক সচেতনতামূলক গ্রাফিতি অপসারণে তাঁর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাফিতির ক্ষেত্রে এমন নির্দেশনার প্রশ্নই আসে না। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বানও জানানো হয়।
তবে ওই বক্তব্যের পরও সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল করেন এনসিপির নেতা-কর্মীরা। পরে চসিকের আমবাগানমুখী প্রবেশপথের সামনে সড়কে রং দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান লেখেন তাঁরা। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নগর এনসিপির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব, সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নিজাম উদ্দিনসহ অন্য নেতারা।
নগর এনসিপির সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেয়র হওয়ার পর থেকে নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। জলাবদ্ধতায় মানুষ দুর্ভোগে পড়লেও সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। এর মধ্যে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবাহী গ্রাফিতি মুছে সেখানে বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন লেখা হয়েছে। আমরা মেয়রকে বলব, আপনার মেয়াদ শেষ, দয়া করে পদ ছাড়ুন।’