
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গারো পাহাড় এলাকার পাদদেশে গড়ে তোলা হয়েছে গাবরাখালী পর্যটনকেন্দ্র। ছোট-বড় ১৬৭টি টিলা নিয়ে গড়ে তোলা এ পর্যটন কেন্দ্র থেকে দেখা যায়, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের উঁচু পাহাড় ও সবুজ অরণ্য। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, প্রতিদিন সৌন্দর্য উপভোগ করতে দর্শনার্থীরা আসেন। আগামী ঈদে এ ভিড় আরও বাড়বে।
হালুয়াঘাট শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে গাবরাখালী পাহাড় এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাবরাখালী গ্রামে একসময় হাজং ও বানাই জনগোষ্ঠীর বসবাস ছিল। সীমান্তঘেঁষা এই গ্রামের উত্তর প্রান্তে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমানা। এই সীমানা ঘেঁষে ১২৫ একর এলাকার বিস্তর জমিতে ছোট-বড় ১৬৭টি টিলা রয়েছে। এর কোনোটি প্রায় ৭০ ফুট, আবার কোনোটি ২০০ ফুট উঁচু। এই টিলাগুলো আবার স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে নানা নামে পরিচিত। কোনোটির নাম চিতাখলা টিলা, কোনোটির নাম যশুর টিলা। আরও আছে মিতালি টিলা, বাতাসি টিলাসহ বাহারি নামের টিলা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ জেলার তৎকালীন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মিজানুর রহমান ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গাবরাখালীতে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। প্রথমে পাহাড়-টিলা জরিপ করা হয়। সরকারিভাবে পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়নে ২০১৯-২০ অর্থবছরে হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদ থেকে এক কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই বরাদ্দ পাওয়ার পর পর্যটনকেন্দ্রটির প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়।
গত ১২ মার্চ পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ের মাঝ দিয়ে হ্রদে বয়ে যাওয়া পানির ওপর রয়েছে ঝুলন্ত সেতু। হ্রদে ঘুরে বেড়ানোর জন্য রয়েছে হাঁসের আদলে নির্মিত প্যাডেল বোট। সেই সঙ্গে লেকজুড়েই দেখা মিলবে হাঁসের। পর্যটকদের থাকা বা বিশ্রামের জন্য রয়েছে মনোরম রেস্ট হাউস। এ ছাড়া জারামবং (পূর্ণিমা) ও ফ্রিংতাল (শুকতারা) নামে দুটি বিশ্রামাগার করা হয়েছে। গারো ভাষায় এ নামকরণ করা হয়েছে।
ইসলামপুর থেকে ফারজানা স্মৃতি বলেন, ‘প্রাকৃতিকভাবে গাবরাখালী দারুণ সুন্দর। লেকে প্যাডেল বোটে বেড়ানো যায়। এ ছাড়া সিঁড়ি বেয়ে পাহাড়ে ওঠা যায়। সব মিলিয়ে অনেক ভালো লেগেছে।’
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে নানাভাবে সাজানো হয়েছে এ পর্যটনকেন্দ্র। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পাহাড়ে রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ। পাহাড়ের টিলায় ওঠার জন্য করা হয়েছে স্টিলের উঁচু সিঁড়ি। পার্কের বাইরে গাড়ি রাখার জন্য রয়েছে পার্কিং জোন। এ ছাড়া পর্যটনকেন্দ্রটি ঘিরে বিভিন্ন দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে এখানে প্রধান ফটক, সুইমিং পুল, ওয়াচ টাওয়ার, শিশু পার্ক, তথ্যকেন্দ্র, মিনি চিড়িয়াখানা ইত্যাদির নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. তোতা মিয়া বলেন, প্রতিদিন শতাধিক ছোট–বড় গাড়িতে দর্শনার্থীরা এখানে ঘুরতে আসেন। এখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী সরকারিভাবে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা প্রয়োজন। তবে তা প্রকৃতিকে নষ্ট করে নয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা হাসান বলেন, উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে পর্যটনকেন্দ্রের নানা কাজ করা হচ্ছে। এটি নান্দনিকভাবে গড়ে তুলতে পর্যায়ক্রমে কাজ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণকাজ শেষ হলে, এ পর্যটনকেন্দ্রকে ঘিরে এ এলাকার পরিবর্তন আসবে।