
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের দুটি আসনে বিএনপির তিন বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়বেন। দুই আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আংশিক) আসনে দলীয় প্রার্থীর বাইরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন দুজন। অন্যদিকে ১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বাইরে একজন বিদ্রোহী রয়েছেন। দুই আসনে তিন বিদ্রোহী শীষ প্রতীকের বিরুদ্ধে লড়বেন।
আজ বুধবার সকালে এই দুই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে চূড়ান্ত আট প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এই আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাবেক সহসভাপতি মিজানুল হক চৌধুরী ফুটবল প্রতীক নিয়ে ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এই আসনে বাকি ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে এলডিপির ওমর ফারুক ছাতা প্রতীক নিয়ে, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. সোলাইমান মোমবাতি, জাতীয় পার্টির বাদশা মিয়া লাঙল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ হাতপাখা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এইচএম ইলিয়াছ আপেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
চট্টগ্রাম-১৬ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী সাতজন। তাঁদের মধ্যে বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী ধানের শীষ ও বিদ্রোহী দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লেয়াকত আলী ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। বাকি পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবদুল মালেক চেয়ার, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহছানুল হক হারিকেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ রুহুল্লাহ হাতপাখা ও গণ অধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হক ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।
নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ১১১ জন। মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১৪৩ জন। যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন ৪২ জন। এরপর নির্বাচন কমিশনে আপিল করে ও আদালতের রায়ে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ২২ জন। গতকাল মঙ্গলবার ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। বিভিন্ন দলের ১২ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
বৈধ তালিকা, নির্বাচন কমিশনের আপিলের তালিকা ও চূড়ান্ত প্রার্থিতার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ২টিতে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ‘বিদ্রোহী’ আছেন তিনটি আসনে। বিএনপির এক প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে নির্বাচন কমিশনে। জামায়াত দুটি আসনে প্রার্থী দেয়নি। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।