
অতি অল্প সময়ের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব। তিনি বলেন, ‘চীন তিস্তা মহাপরিকল্পনায় অর্থায়ন করবে, কারিগরি সহায়তা দেবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই চীন সফর করবেন। আমি অত্যন্ত আশাবাদী, জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সরকার অতি অল্প সময়ে এই কাজ শুরু করবে, ইনশা আল্লাহ।’ আজ সোমবার দুপুরে লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়াম মাঠে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চাকরি মেলা উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব বলেন, ‘আমাদের (বিএনপির) নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল, সরকার গঠন করা হলে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মসংস্থানের মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এখানে বেসরকারি শিল্প উদ্যোক্তা যাঁরা রয়েছেন এবং সরকারি ক্ষেত্রে আমরা নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করব। বাংলাদেশে তো বেকারত্ব একটা অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে, ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে অনেক ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ধীরে ধীরে আগামী পাঁচ বছরে সেটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। এর পাশাপাশি যাঁরা হতদরিদ্র, যাঁরা গরিব–অসহায়, তাঁদের জন্য কিছু পরিকল্পনা ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষকের ঋণ মওকুফ করা, যে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে, সেখানে অসহায় ও দরিদ্র মানুষেরা কাজ করতেছে। জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে, সেই ম্যান্ডেটের আলোকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের যুগান্তকারী কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন উল্লেখ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে, ক্রীড়াটাকে তিনি পেশা হিসেবে দেখতে চান। সে জন্য শৈশব থেকে ক্রীড়াবিদ বাছাই করতে চান। ইতিমধ্যে ৬৪ জেলায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতিটি ইউনিয়নে আট একর মাপের একটি খেলার মাঠ থাকবে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে।
বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাট হয়ে সরাসরি ঢাকায় বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল এখনো কেন শুরু হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুল হাবিব বলেন, ‘আমি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাঁরা আমাকে বলেছেন, তাঁদের রেলওয়ে ইঞ্জিন (লোকোমোটিভ) ও বগির স্বল্পতা রয়েছে, সে কারণে এই সময়ের মধ্যে সেটা করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেছেন, কিছুদিনের মধ্যে কিছু বগি ও ইঞ্জিন এলে তখন এটা বিবেচনা করা হবে।’
প্রসঙ্গত আসাদুল হাবিব মন্ত্রী হওয়ার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বরাতে ঘোষণা করেন, ছয় মাসের মধ্যে বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেন সরাসরি বুড়িমারী থেকে লালমনিরহাট হয়ে ঢাকায় চলাচল করবে।