দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে আধিপত্য নিয়ে হামলা-ভাঙচুর, পাল্টাপাল্টি মামলা

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক বাড়িওয়ালাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে যৌনপল্লি ও পাশের সামসু মাস্টারপাড়ায় পৃথক হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে। তবে রোববার দুপুর পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

আহত ব্যক্তির নাম ইয়াকুব আলী পাল (৪০)। তিনি দৌলতদিয়া শাহাদত মেম্বারপাড়ার বাসিন্দা এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদ পালের ছোট ভাই। হামলায় তাঁর বাঁ হাতের একটি আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যৌনপল্লির ভেতরে একটি দ্বিতল ভবনের ছাদে হুমায়ুন নামের এক ব্যক্তির ফাস্ট ফুডের দোকান ও জলসাঘর রয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে সেখানে অবস্থান করছিলেন ইয়াকুব পাল। এ সময় ইয়াকুবের সঙ্গে হুমায়ুন ও তাঁর সহযোগী তুহিনের কথা-কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ উঠেছে, পরে হুমায়ুন তাঁর স্ত্রীর বড় ভাই অনিক খানকে খবর দিলে তিনি কয়েকজনকে নিয়ে এসে ইয়াকুবকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। অনিক খান দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউপির সাবেক সদস্য আইয়ুব আলী খানের ছোট ছেলে। হামলার পর স্থানীয় লোকজন ইয়াকুবকে উদ্ধার করে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে ইয়াকুবের ওপর হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর সমর্থকেরা হুমায়ুনের জলসাঘর ও ফাস্ট ফুডের দোকানে ভাঙচুর চালান। পরে সামসু মাস্টারপাড়ায় হুমায়ুনের বাড়িতেও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

হুমায়ুনের স্ত্রী মারুফা আক্তার জানান, ‘দুর্বৃত্তরা আমার বাসায় প্রবেশ করলে প্রাণে বাঁচতে আমার শ্বশুর-শাশুড়ির রুমে চলে যাই। দুর্বৃত্তরা আমার ঘরে প্রবেশ করে চিৎকার করে হুমায়ূনকে খুঁজতে থাকে এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। কাউকে না পেয়ে ঘরের আলমারিতে থাকা প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।’

ইয়াকুবের বড় ভাই শহীদ পাল বলেন, যৌনপল্লিতে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী খানের মেয়েজামাই ও ছেলেরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বাড়ি কেনাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির জেরে তাঁর ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী খানের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বড় ছেলে আরিফ খান জানান, তাঁর বাবা অসুস্থ। তিনি বলেন, ‘আমরা থানায় মামলা করেছি।’

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম জানান, হামলার ঘটনায় ইয়াকুবের বড় ভাই শহীদ পাল এবং হুমায়ুনের বাবা হাসেম শেখ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।