এয়ারগান দিয়ে গুলি
এয়ারগান দিয়ে গুলি

এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার করছিলেন, বাধা দেওয়ায় যুবককে গুলি

নাটোরের সিংড়া উপজেলায় পাখি শিকারে বাধা দেওয়ায় শহিদুল ইসলাম (৩৮) নামের এক যুবককে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে এক শিকারির বিরুদ্ধে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বিয়াশ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই যুবককে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শহিদুল ইসলাম সিংড়ার বিয়াশ গ্রামের জশমত আলীর ছেলে। পেশায় তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত পাখি শিকারির নাম সজীব হোসেন (২৬)। পেশায় মুঠোফোন ব্যবসায়ী এই যুবক বিয়াশ গ্রামের ছায়িম হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভুক্তভোগী যুবকের পরিবার।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিয়াশ গ্রামের সজীব হোসেন এয়ারগান দিয়ে গ্রামের বিভিন্ন পুকুর থেকে পানকৌড়ি পাখি শিকার করেন। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি একটি পুকুর থেকে চারটি পানকৌড়ি শিকার করেন। পরে অন্য একটি পুকুরে পাখি শিকার করতে গেলে শহিদুল ইসলাম তাঁকে বাধা দেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শহিদুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি করেন সজীব। এ সময় আশপাশের লোকজন ছুটে এলে সজীব পালিয়ে যান।

ঘটনার পর স্বজনেরা শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে প্রথমে নাটোর শহরের জনসেবা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে এক্স–রে করার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর শহিদুল ইসলামকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সজীব এয়ারগান দিয়ে প্রায়ই পাখি শিকার করেন। আজ তাঁকে পাখি শিকার করতে দেখে নিষেধ করেন তিনি (শহিদুল)। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সজীব তাঁর পেটে গুলি চালান।

হাসপাতালের মুখপাত্র শেখ শামীম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, শহিদুল ইসলামের বুক ও পেটের মাঝখানে একটা ক্ষত পাওয়া গেছে। এক্স–রে করে সেখানে কোনো পিলেট বা ছররা গুলি পাওয়া যায়নি। যেহেতু তিনি এয়ারগান দিয়ে গুলি করার কথা জানিয়েছেন, বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য আবার এক্স–রে ও আলট্রাসনোগ্রাম করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

অভিযুক্ত সজীব হোসেন পালিয়ে যাওয়ায় এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি শুনেছি। এয়ারগান দিয়ে গুলি করা হয়েছে। একটি গুলি শহিদুলের শরীরে লেগেছে। চিকিৎসার কাজে স্বজনেরা ব্যস্ত থাকায় তাঁরা এখনো থানায় অভিযোগ করতে আসেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলামের ভাতিজা ফরিদ উদ্দিন বিকেল চারটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘একটা গুলি শহিদুলের ডান পাঁজরের ভেতরে এখনো আছে। ডাক্তাররা গুলিডা বার করার জন্য অপারেশন করবি।’ তিনি বলেন, অবস্থা বেগতিক দেখে অভিযুক্ত যুবক পালিয়েছেন। তাঁরা এখনো থানায় যেতে পারেননি। তবে খুব দ্রুত এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে।