চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনসে সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আজ বেলা সাড়ে ১১টায়
চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনসে সাইবার পুলিশ সেন্টারের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। আজ বেলা সাড়ে ১১টায়

অপারেশন ক্লিনহার্ট করার পরিকল্পনা নেই: চট্টগ্রামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অপারেশন ক্লিনহার্ট করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ডিসেম্বর মাস ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতার গুঞ্জন, বিরোধী দলের চলমান আন্দোলন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অপারেশন ক্লিনহার্ট করার কোনো পরিকল্পনা নেই। সব বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব আছে। তবে আমাদের সামনে কোনো চ্যালেঞ্জ নেই।’

খুলনায় পুলিশের মধ্যে আতঙ্ক এবং চট্টগ্রামে প্রভাবশালীদের চাপে আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ অপরাধ দমন করতে গেলে মাঝেমধ্যে আক্রমণের শিকার হয়, এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। অপরাধীদের দমনে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে কেউ যদি আসামিকে সহায়তা করে থাকে, তবে তথ্য পেলে তার বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সাইবার পুলিশ সেন্টার উদ্বোধন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আজ আমরা সাইবার পুলিশ অফিস ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন করলাম। কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা কোইকার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এই পুরো কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’ এই সহযোগিতার জন্য কোরীয় সরকার, দেশটির রাষ্ট্রদূত, কোইকার প্রতিনিধি ও সফররত প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই একটি বিশেষায়িত পুলিশ সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছিলাম। ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু হয়েছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারটি অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তবে ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ ও পরীক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা হবে।

আধুনিক অপরাধ দমনে প্রযুক্তির বিকল্প নেই

বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অপরাধের ধরন বদলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল দুনিয়ায় সাইবার স্পেস ব্যবহার করে নানা অপরাধ ও প্রতারণা সংঘটিত হচ্ছে, এমনকি শেয়ারবাজারে কারসাজিও এর মাধ্যমে করা হচ্ছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন করার জন্য ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই।

বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিচারব্যবস্থায় আমরা যদি মানুষের বিচারপ্রাপ্তি দ্রুত নিশ্চিত করতে চাই, তাহলে এসব বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের প্রয়োজন হয়।’ অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশকে আধুনিক পরীক্ষাগারের সুবিধা, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণে সক্ষম করে তোলা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। এ ছাড়া পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সরদার নুরুল আমিন এবং কোইকার বাংলাদেশ কার্যালয়ের পরিচালক জি-হুন কিম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী, নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (প্রিজন) ছগির মিয়া, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রমুখ।