ব্রাহ্মণবাড়িয়া গভ. গার্লস হাইস্কুল

ভর্তির লটারির ফলে এক শিক্ষার্থীর নাম ১৪ বার ও আরেকজনের ৫ বার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গভ. মডেল গার্লস হাইস্কুলের ভর্তির ফলে এক শিক্ষার্থীর নাম ১৪ বার ও আরেক শিক্ষার্থীর নাম পাঁচ বার এসেছে
ছবি: প্রথম আলো

ব্রাহ্মণবাড়িয়া গভ. মডেল গার্লস হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত লটারির ফলে এক শিক্ষার্থীর নাম ১৪ বার ও আরেক শিক্ষার্থীর নাম ৫ বার এসেছে। এর মধ্যে প্রথম শিক্ষার্থীর নাম মেধাতালিকায় ১০ বার ও অপেক্ষমাণ তালিকায় ৪ বার এসেছে। দ্বিতীয় শিক্ষার্থীর নাম এসেছে মেধাতালিকায় পাঁচবার।

গতকাল সোমবার এ ফল প্রকাশিত হলেও আজ মঙ্গলবার বিকেল থেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। জেলা শহরের সর্বত্র বিষয়টি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এতে খুব বেশি সমস্যা হবে না। যার নাম একাধিকবার এসেছে, তার ভর্তির পর শূন্য আসনে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জুলফিকার হোসেন বলেন, ‘দুপুরে গভ. মডেল গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি জানিয়েছেন। দুপুরেই বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক স্যার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ক্ষেত্রে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে ভর্তির সুযোগ পাবে। বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকেও জানানো হয়েছে, যাতে আগামী বছর এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে।’

গতকাল বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব সরকারি বিদ্যালয়ের প্রথম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ করে। লটারি পদ্ধতিতে এ ফল নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া গভ. মডেল গার্লস হাইস্কুলের প্রধান ফটকের বাইরের দেয়ালে আঠা দিয়ে লাগানো ফলের কাগজ ঘেঁটে দেখা যায়, ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফলে এক শিক্ষার্থীর নাম মেধা তালিকার যথাক্রমে ৫, ১৩, ১৭, ২৪, ৩২, ৩৬, ৬৬, ৬৭, ৯৮ ও ১১৬ নম্বরে এসেছে। অপেক্ষমাণ তালিকায় তার নাম এসেছে ৮১, ১০৮, ১১৬ ও ১১৮ নম্বরে। সবগুলো নম্বরে তার নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, মুঠোফোন নম্বর একই রয়েছে।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহসভাপতি আব্দুন নূর প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সিস্টেমের দুর্বলতা রয়েছে। যাঁরা পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাঁদেরও দায়িত্বে অবহেলা ছিল। কেউ একাধিকবার আবেদন করে থাকলে তদন্ত করে তাঁদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।

আব্দুন নূর আরও বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির সময় লটারি পদ্ধতিতে ভর্তি নেওয়ার বিষয়টি ঠিক ছিল। এখন লটারি পদ্ধতি বাতিল করা উচিত। কারণ, এতে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া গভ. মডেল গার্লস হাইস্কুল সূত্র জানায়, তাঁদের বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির তালিকায় এক শিক্ষার্থীর নাম ১৪ বার ও আরেক শিক্ষার্থীর নাম ৫ বার এসেছে। তিন জায়গায় এক রকম ও দুই জায়গায় আরেক রকম নাম এসেছে। তবে এই পাঁচ জায়গাতে শিক্ষার্থীর বাবা ও মায়ের নাম, মুঠোফোন নম্বর, জন্মনিবন্ধন নম্বর ও ছবি একই।