যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার করা অজ্ঞাতপরিচয় লাশের পরিচয় মিলেছে। স্বজনেরা জানিয়েছেন, লাশটি নিসর্গ সাহার (২৫)। গত সোমবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার মশরহাটী এলাকায় ভৈরব নদ থেকে লাশটি উদ্ধার করে নওয়াপাড়া নৌ পুলিশ। পরে সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে এসে স্বজনেরা লাশটি নিসর্গ সাহার বলে শনাক্ত করেন।
নিসর্গ সাহা যশোর শহরের চৌরাস্তা এলাকার পলাশ বিশ্বাসের ছেলে। তিনি অভয়নগর উপজেলার মহাকাল গ্রামে তাঁর নানার বাড়িতে থাকতেন। ২০ জুলাই সকালে বাইরে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেননি। ওই তরুণকে খুঁজে না পেয়ে সেদিন রাতেই তাঁর মা কৃষ্ণা রানী সাহা অভয়নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, শুক্রবার সকালে ভৈরব নদে জোয়ারের সময় উপজেলার মধ্যপুর এলাকা দিয়ে একটি লাশ ভেসে যেতে দেখা যায়। লাশটির পরনে ছিল জিন্সের প্যান্ট ও হলুদ রঙের একটি গেঞ্জি। পরে তাঁরা নওয়াপাড়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ লাশটির খোঁজ শুরু করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মধ্যপুর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মশরহাটী এলাকায় ভৈরব সেতুর পাশে নদীতে লাশটি দেখতে পায় পুলিশ। বেলা তিনটার দিকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
কয়েক দিন পানিতে থাকায় লাশটি পচে গিয়েছিল। উদ্ধারের পর পলাশ বিশ্বাস ও কৃষ্ণা রানী সাহা পরনের পোশাক দেখে লাশটি তাঁদের ছেলে নিসর্গ সাহার বলে শনাক্ত করেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।রণজিত সেন, নওয়াপাড়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক
বিষয়টি নিশ্চিত করে নওয়াপাড়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) রণজিত সেন বলেন, নিসর্গ সাহার মা–বাবা পরনের পোশাক দেখে তাঁকে শনাক্ত করেছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।