২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর একরামুদ্দৌলার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর একরামুদ্দৌলার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়

ঠাকুরগাঁও

চার মৃত্যুতে দুই মামলায় ঢালাও আসামি, ‘জুলাই শহীদ’ তালিকাভুক্তি নিয়েও প্রশ্ন

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের এক নেতার বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের সময় দগ্ধ হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দুটি মামলা করে ঢালাওভাবে দুই শতাধিক মানুষকে আসামি করে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে।

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন’ অধ্যাদেশের সংজ্ঞা উপেক্ষা করে নিহত চারজনকে ‘জুলাই শহীদ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল পাঁচটার পর ঠাকুরগাঁও শহরের বালিয়াডাঙ্গী মোড়ে পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য মো. একরামুদ্দৌলা ওরফে সাহেবের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় দগ্ধ হয়ে সদর উপজেলার ছিটচিলারং গ্রামের ফজলে আলমের ছেলে আবু রায়হান, আরাজি পাইকপাড়া গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে রাকিবুল হাসান, ছিটচিলারং গ্রামের আইনুল হকের ছেলে আল মামুন ও হরিহরপুর গ্রামের প্রয়াত সইফ উদ্দিনের ছেলে সাহান পারভেজ মারা যান। এ ঘটনায় নিহত রাকিবুলের বাবা জাকির হোসেন ও রায়হানের বাবা ফজলে আলম দুটি মামলা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি মামলার নথি বিশ্লেষণ করেছে প্রথম আলো। বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে, নিহত তরুণ-যুবকেরা ওই নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে মারা যান। তবে নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা পরিকল্পনা করে ওই তরুণদের ওই বাড়িতে ডেকে নেয়ে গিয়েছিলেন। মামলার আসামি করার ক্ষেত্রে তাঁদের মতামত উপেক্ষা করে অনেক ব্যক্তির নাম জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

একই ঘটনায় দুটি মামলা

নিহত রাকিবুলের বাবা জাকির হোসেন বাদী হয়ে ওই বছরের ২১ আগস্ট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৭৭ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। অন্যদিকে নিহত রায়হানের বাবা ফজলে আলম আদালতে আরেকটি মামলার আবেদন করেন। আদালতের নির্দেশে ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সদর থানায় মামলাটি গ্রহণ করা হয়। মামলায় ৯১ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

একই ঘটনায় দুটি মামলা হওয়ায় প্রথম মামলাটির সঙ্গে দ্বিতীয় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলাটি শুরুতে তদন্ত করেন সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) বাবুল হোসেন। পরে দায়িত্ব পান এসআই মুয়ীদ খান। বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিউল ইসলাম গত ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। তদন্তের পর মামলায় ২০৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। শফিউল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী চারজন মারা যাওয়ার আগে বাবা-মা ও বন্ধুদের কাছে আসামিদের নাম বলে গেছেন। তাঁদের দেওয়া নাম অনুযায়ী মামলার আসামি করা হয়েছে।

মামলায় অসংগতি

মামলার আরজি ও এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে আন্দোলন থেকে বিরত থাকতে নিহত চারজনকে হুমকি দেন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু তাঁরা হুমকি উপেক্ষা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ায় তাঁদের হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল পাঁচটার দিকে ওই চারজনসহ ছাত্র-জনতা আন্দোলনে অংশ নিতে শহরের রোড এলাকার বালিয়াডাঙ্গী মোড়ে গেলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কৌশলে তাঁদের ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর একরামুদ্দৌল্লার বাড়িতে নিয়ে যান। এ সময় আন্দোলন থেকে বিরত থাকতে টাকার প্রলোভন দেখানো হয়; কিন্তু রাজি না হলে চারজনকে আটকে রেখে গ্যাস সিলিন্ডারের মুখ খুলে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে যান। এতে চারজন দগ্ধ হয়ে মারা যান।

মামলার আরজি পড়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইন্দ্রনাথ রায় বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করতেই মামলাগুলো করা হয়েছে। যখন আওয়ামী লীগের পতন হয়ে গেছে, তখন ছাত্রদের কোনো নেতার বাড়িতে ডেকে নিয়ে আন্দোলন থেকে বিরত থাকতে বলা বা টাকার প্রলোভন দেখানো যুক্তিযুক্ত নয়। ঘটনাস্থলে তখন শত শত আন্দোলনকারী ছিলেন। ঘরের ভেতরে চারজনকে আটকে গ্যাস সিলিন্ডারের মুখ খুলে অগ্নিসংযোগ করে ১৫০ থেকে ২০০ জন নিরাপদে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এমনটা হলে এলাকার লোকজনের হাতে কেউ না কেউ ধরা পড়তেন। তিনি বলেন, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার চললে এসব মামলা আদালতে টিকবে না।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর একরামুদ্দৌলার এই বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়

ফায়ার সার্ভিসের ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সাহিদুল ইসলাম বলেন, সিলিন্ডারের মুখ খুলে আগুন দিলে শুধুই গ্যাস পুড়বে। সেই আগুনে আশপাশের কারও দগ্ধ হওয়ার কথা নয়। সামান্য আগুনে সিলিন্ডারের বিস্ফোরণেরও সুযোগ নেই। তাঁর ধারণা, সিলিন্ডারের গ্যাসে নয়, পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থের আগুনে লোকজন দগ্ধ হয়েছেন। এ জন্য আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা কী বলছেন

একরামুদ্দৌলার বাড়ির সামনের মার্কেটে পানের আড়ত চালান নুর ইসলাম। ঘটনার দিন তিনি দোকানে ছিলেন। নুর ইসলাম বলেন, ‘যেদিন শেখ হাসিনা পালিয়ে যান, সেদিন বিকেলে শত শত মানুষ বালিয়াডাঙ্গী মোড়ে জড়ো হয়। তখন আড়তের সামনে ৫০ থেকে ৬০ জন ছেলেপেলে বলতে থাকে, সাহেবের (একরামুদ্দৌলা) বাড়ি ভাঙবে। এটা শুনে আমরা আড়ত বন্ধ করে দিই। এরপরই ৫০ থেকে ৬০ জন সাহেবের বাড়িতে গিয়ে জানালার কাচ ভাঙচুর শুরু করে। একসময় তারা গেটের তালা ভেঙে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। কিছুক্ষণ পর সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।’

একরামুদ্দৌলার বাড়ির পেছনে নুর জাহানদের বাড়ি। নুর জাহান বলেন, ‘ওই দিন দুপুরের আগেই সাহেবের বাড়ির লোকজন বের হয়ে যায়। বিকেলে গন্ডগোলের শব্দ শুনে আমি ও আমার স্বামী বাড়ি থেকে বের হয়ে ওই বাড়ির দিকে যাই। দেখি লোকজন বাড়ি ভাঙচুর করছে। একসময় তারা সেখানে আগুন দেয়। তারপর লোকজন আগুনে পোড়া কয়েকজনকে ধরাধরি করে বের করে আনে।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্বের ঘটনা মীমাংসা করা নিয়ে একরামুদ্দৌল্লার ওপর নাখোশ ছিলেন ঠাকুরগাঁও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন। এর জেরে দীর্ঘ হয়রানির শিকার হন তিনি। সেই ক্ষোভ থেকে ৫ আগস্ট বিকেলে মামুনসহ তরুণ-যুবকেরা একরামুদ্দৌল্লার বাড়ির দিকে যান। সেখানে ভাঙচুরের এক পর্যায়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলে মামুনসহ ছয়জন দগ্ধ হন। পরে চারজনের মৃত্যু হয়।

ঢালাও মামলা করে হয়রানি

এ ঘটনায় মামলার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র আঞ্জুমান আরা বেগম, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক দেবশীষ দত্তসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের ৬৯ জন গ্রেপ্তার হন। তাঁদের কেউ কেউ এখন জামিন পেয়েছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে অন্যরা পালিয়ে আছেন।

একরামুদ্দৌল্লার স্বজন নাসিরুল হক বলেন, হামলাকারীদের হাতে থাকা পেট্রলের আগুন লেগে তাঁরা দগ্ধ হন। এ ঘটনায় উল্টো বাড়ির মালিকসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে। হয়রানির জন্যই অনেককে আসামি করা হয়।

সদর উপজেলার আরাজী পাইকপাড়া গ্রামের মাজহারুল ইসলাম মাদারগঞ্জ হাটে টোল আদায় করতেন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। একরামুদ্দৌল্লার বাড়িতে অগ্নিসংযোগে মৃত্যুর ঘটনায় তাঁকেও আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি পালিয়ে থাকায় তাঁর পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।

দোকানের কেনাবেচার ওপরই সংসার চলত সদরের ছিটচিলারং গ্রামের মোখলেসুর রহমানের। মামলায় আসামি হওয়ার পর তিনিও এলাকাছাড়া। মোখলেসুর মুঠোফোনে বলেন, ‘হামার কপালত এইখান ছিল। দল করার কারণেই আইজ পালায় থাকিবা হচে।’ একই অবস্থা মাদারগঞ্জের রাসেল, কৃষ্ণপুরের মো. ফারুকসহ অনেকের পরিবারের।

নিহতের স্বজনেরা কী বলছেন

সেদিনের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মারা যান আল মামুন। তবে তাঁর পরিবার মামলা করেনি। গত ৩১ ডিসেম্বর মামুনের বাবা আইনুল হক মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় আমি মামলা করতে গিয়েছিলাম। যারা এ ঘটনায় জড়িত নয়, তাদের নাম আসামির তালিকায় ঢোকায় দিতে চাইছিল এলাকার লোকজন। তাই আর মামলা করিনি।’

একটি মামলার বাদী জাকির হোসেন বলেন, ‘এটা তো রাজনৈতিক মামলা। আসামির সব নাম তো আমি দিইনি। নাম কে, কীভাবে ঢোকায় দিছে জানি না। বেশির ভাগ আসামির নাম বাইরের লোকজনই দিছে।’

অন্য মামলার বাদী ফজলে আলম ২০৬ জন আসামিকে চেনেন না বলে জানিয়েছেন। ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের তো পরিকল্পনা করে বাড়িতে ডাকে নিয়ে মারা হয়েছে। এখন বলা হচ্ছে, ওই বাড়িতে তারা হামলা করতে গিয়েছিল। তাঁর ছেলে যেহেতু আন্দোলনে ছিলেন, তাই তিনি শহীদের তালিকায় নাম আনতে আবেদন করেছিলেন।’

পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমি এখানে কেবল এসেছি। জুলাই-আগস্টে কী ঘটেছিল, বিস্তারিত জানা নেই। তবে এসব ঘটনায় জড়িত নয়, এমন ব্যক্তিদের হয়রানি না করার বিষয়টি দেখব।’

জুলাই শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি

জুলাই শহীদ হিসেবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৮৩৪ জনের নামে গেজেট প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পরে আরও ১০ জনকে ৩০ জুন গেজেট প্রকাশ করা হয়। সেখানে ওই চারজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ’ অর্থ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে তৎকালীন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ওই সময়ে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের আক্রমণে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ‘জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই শহীদের তালিকা’ যাচাই কমিটিতে সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবুল বাসার মো. সায়েদুজ্জামান। তিনি বলেন, নিহতের স্বজনদের আবেদন যাচাই করতে গিয়ে বাস্তবতার সঙ্গে বর্ণনার গরমিল পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর গণ-অভ্যুত্থান–সংক্রান্ত বিশেষ সেল থেকে এক চিঠিতে জানানো হয়, গণ-অভ্যুত্থানে সম্পৃক্ত হয়ে নিহত বা নিখোঁজ বা বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে বা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বা আন্দোলনে সম্পৃক্ত থেকে অন্য কোনোভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন—এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করতে হবে। ওই চিঠি বিবেচনায় নিয়ে অগ্নিদগ্ধে মারা যাওয়া চারজনকে শহীদের তালিকার আনা হয়। কিন্তু চলতি বছরের জুনে জারি করা অধ্যাদেশের সংজ্ঞা অনুযায়ী দেখছেন, তাঁদের নাম শহীদের তালিকায় আসে না।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা বলেন, শহীদ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যে শর্ত ছিল, তা যাচাইয়ে একটি কমিটি ছিল। কমিটির সদস্যরা যাচাইয়ের পর সরকারি নির্দেশনা বিবেচনা নিয়ে তাঁদের শহীদের তালিকাভুক্ত করেন। পরে যদি অন্যভাবে বিবেচনার নির্দেশনা আসে, তাঁরা নিশ্চয় মেনে চলবেন।