গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে টানানো হয়েছে নোটিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চেরাগ আলী এলাকায়
গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে টানানো হয়েছে নোটিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে চেরাগ আলী এলাকায়

অগ্নিকাণ্ডের পর টঙ্গীর ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কারখানা বন্ধ ঘোষণা

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাটি বন্ধ থাকবে। তবে কারখানাটিতে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কারখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফ্যাক্টরি ইনচার্জ) মোহাম্মদ আবু সাঈদের সই করা এক নোটিশে কার্যক্রম বন্ধের তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানার সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে কবে নাগাদ কারখানার কার্যক্রম আবার শুরু হবে, সে বিষয়ে নোটিশে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

এর আগে গতকাল বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে বিভিন্ন ফায়ার স্টেশনের আরও ইউনিট যুক্ত হয়। মোট ২১টি ইউনিটের প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ১১টি ইউনিট আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণের কাজ চালিয়ে যায়। রাত ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়।

এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই কর্মকর্তাসহ তিন সদস্য আহত হন। আহত ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর নূর উদ্দিন ও জহিরুল ইসলামকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ফায়ার ফাইটার কালামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে কারখানাটির গেট বন্ধ দেখা গেছে

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, আগুন বড় আকার ধারণ করায় আজ সকাল পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার সঠিক কারণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আগুন লাগার সঠিক কারণ জানানো হবে।

এর আগে গতকাল দুপুরে কারখানার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁদের কারখানায় প্রায় ২০০ শ্রমিক কাজ করেন। হঠাৎ চতুর্থ তলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে শ্রমিকেরা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। পরে জরুরি অ্যালার্ম বাজানো হয়। এরপর কারখানার সব শ্রমিক দ্রুত ও নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।

কারখানাটিতে কোনো দাহ্য পদার্থ নেই দাবি করে শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।