ইন্দুরকানি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

চিকিৎসকের ১০ পদের সাতটি দীর্ঘদিন শূন্য

হাসপাতালটিতে খুব রোগী আসেন।  সরকারি এ হাসপাতালটি থেকে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার লাখো মানুষ।

চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতির সংকটে ইন্দুরকানি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। এ জন্য হাসপাতালটি বেশির ভাগ সময় ফাঁকাই পড়ে থাকছে। গতকাল রাতে
 ছবি: প্রথম আলো

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি চিকিৎসকের পদই  দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। হাসপাতালটিতে প্যাথলজি পরীক্ষার যন্ত্র না থাকায় রোগীদের পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। এসব নানা কারণে উপজেলার বাসিন্দারা এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে খুব কম আসেন। সরকারি এ হাসপাতালটি থেকে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার লাখো মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে ইন্দুরকানি উপজেলায় ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়। ২০০৮ সালের নভেম্বরে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করার পর এ হাসপাতাল যাত্রা শুরু করে। তবে তখন বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলেও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু হয়নি। ২০১৭ সালের অক্টোবরে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। শুধু সুপেয় পানি সরবরাহ নিয়ে জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ চালু করা যায়নি। গত বছরের অক্টোবরে হাসপাতালের অন্তর্বিভাগ চালু করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালে ১০টি চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে মেডিসিন, শল্য, গাইনি ও অবেদনবিদ পদের চারটি জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। ডেন্টাল সার্জন ও আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তার (আরএমও) পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসা কর্মকর্তার তিনটি পদের মধ্যে একটি পদ শূন্য রয়েছে। দুজন চিকিৎসা কর্মকর্তা ও সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া তিনজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম।

চিকিৎসকেরা জানান, প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। তবে চিকিৎসক কম থাকায় অনেকে চিকিৎসার জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চলে যান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথলজি পরীক্ষার যন্ত্র না থাকায় রোগীদের পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। গাইনি ও অবেদনবিদ জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদে চিকিৎসক না থাকায় এবং অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম না থাকায় প্রসূতি মায়েদের অস্ত্রোপচার করা যাচ্ছে না। এর বাইরে আয়া ও বাবুর্চির দুটি করে পদ থাকলেও একজন করে কর্মরত রয়েছেন। ওয়ার্ড বয়ের দুটি পদের একজনকে প্রেষণে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে পদায়ন করা হয়েছে।

২৬ অক্টোবর দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে রোগীর সংখ্যা খুব কম। টিকিট কাউন্টারে নেই রোগীদের ভিড়। চিকিৎসকেরা বেশির ভাগ সময় অলস বসে থাকছেন।

উপজেলার পত্তাশী গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আয়শা আক্তার বলেন, ‘হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলাম। ওই পদে চিকিৎসক না থাকায় পিরোজপুর সদর হাসপাতালে যাচ্ছি।’

ইন্দুরকানি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নূর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চালু হওয়ার ১৪ বছর পর অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু হয়। দীর্ঘদিন ধরে অন্তর্বিভাগ চালু না হওয়া, বেশির ভাগ চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকা এবং প্যাথলজি পরীক্ষা বন্ধ থাকায় রোগীর সংখ্যা কম। এসব সমস্যা দূর করা গেলে এখানে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবেন।’

পিরোজপুরের সিভিল সার্জন মো. হাসনাত ইউসুফ জাকী বলেন, ‘ইন্দুরকানি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তর্বিভাগ দীর্ঘদিন চালু না হওয়ায় প্যাথলজি পরীক্ষার যন্ত্রপাতি কিছুই ছিল না। প্যাথলজি পরীক্ষা যন্ত্রপাতি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য উপজেলা হেলথ কেয়ারের পরিচালককে আমরা চিঠি দিয়েছি।’