
ভার্চ্যুয়াল গাছের বিপরীতে বাস্তবে গাছ লাগানোর মধ্য দিয়ে গ্রাহকদের ‘বিকাশ বন’ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করে খুলনায় শুরু হয়েছে নতুন বনায়ন কর্মসূচি। খুলনা সিটি করপোরেশন ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের যৌথ উদ্যোগে নগরের সোলার পার্ক ও লিনিয়ার পার্কে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
গত শনিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম ও খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সোলার পার্ক এলাকায় গাছ লাগিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ, খুলনা বিভাগীয় বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ, বিকাশের রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের হেড ও ইভিপি হুমায়ুন কবিরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ধারাবাহিকভাবে এ কর্মসূচির আওতায় খুলনায় ২৫ হাজার গাছ লাগানো হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিকাশের যৌথ বনায়ন কর্মসূচির আওতায় খুলনায় বৃক্ষরোপণ ও তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এ উদ্যোগের আওতায় কোন স্থানে কোন জাতের গাছ লাগানো হবে এবং সেই গাছগুলোর পরিচর্যা কীভাবে হবে, সে বিষয়গুলোতেও গুরুত্ব দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা।
সারা দেশে গাছ লাগানোর সরকারি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও যাতে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সামাজিক সচেতনতা ছাড়া সরকারের এসব সবুজায়নের প্রচেষ্টা সফল করা সম্ভব নয়। এ কাজে সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
খুলনাসহ দেশের পুরো দক্ষিণাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম বলেন, পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার উপকূলীয় অঞ্চলসহ সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, সুন্দরবন আমাদের শুধু অক্সিজেন দিয়ে জীবন রক্ষা করে না, এটি ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ থেকেও জানমাল রক্ষা করে। তাই উপকূলজুড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে। এ বনায়ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় খুলনাবাসীর পক্ষ থেকে বিকাশকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এ বনায়ন কর্মসূচিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসবে।
আয়োজকেরা জানান, সরাসরি গাছ লাগিয়ে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতেই ‘বিকাশ বন’ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকাশ অ্যাপ থেকে করা প্রতিটি ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ডিপিএস খোলা, অ্যাড মানি, ঋণ নেওয়া, মোবাইল রিচার্জ ও সেন্ড মানির মতো নির্ধারিত ডিজিটাল লেনদেনের বিপরীতে গ্রাহক পাবেন ‘গ্রিন পয়েন্ট’।
গ্রিন পয়েন্ট জমার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের বিকাশ অ্যাপের ‘বিকাশ বন’-এ থাকা ভার্চ্যুয়াল চারাগুলো ধীরে ধীরে বৃক্ষে পরিণত হবে। নির্ধারিত পয়েন্ট অর্জনের পর ‘বিকাশ বন’-এ থাকা ভার্চ্যুয়াল গাছটির বিপরীতে বাস্তবে একটি গাছ রোপণ করবে বিকাশ। পরবর্তী সময় অ্যাপ থেকেই সেই গাছের হালনাগাদ তথ্যও দেখতে পারবেন গ্রাহক।