মরদেহ
মরদেহ

নড়াইলে শিক্ষার্থীর মৃত্যু, মাদ্রাসার তিন শিক্ষক পুলিশ হেফাজতে

নড়াইল সদর উপজেলায় আবাসিক মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী মারা গেছে। পরিবারের অভিযোগ, গতকাল মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসায় ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। আজ বুধবার বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নড়াইল থেকে যশোর নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

মারা যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর বয়স ১৩ বছর। সে নড়াইল সদর উপজেলার একটি আবাসিক মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। তার বাড়ি একই উপজেলায়। পুলিশ হেফাজতে থাকা মাদ্রাসার শিক্ষকেরা হলেন ইউসুফ হায়দার (৩৭), হাসিবুর রহমান (৩০) ও ফাহাদ শেখ (৩২)।

এই কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছে না। ওই মাদ্রাসায় ওরা জোর করে আমার সন্তানডারে মাইরে ফেলিছেরে। কালকে দেহে (দেখে) আসলাম আমার সন্তানডারে। আসরের সময় একসঙ্গে নামাজ পড়লাম। তার শরীলি রোগ বলতি কিছু নাই। সেই সন্তানডারে রাত্রিরি হয়তো বারি (মাইর) দেছে, রগ কাইটে গেছে।
সৈয়দ ইকরাম আলী, নিহত শিক্ষার্থীর বাবা

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী আজ ভোররাতে অসুস্থ হয়ে পড়ে জানিয়ে মাদ্রাসা থেকে পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্বজনেরা এসে তাকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসার এক পর্যায়ে চিকিৎসক ওই শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর নেওয়ার পরামর্শ দেন। যশোর নেওয়ার পথে বেলা তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মাদ্রাসার শিক্ষকদের মারধরে অসুস্থ হয়ে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তার বাবা সৈয়দ ইকরাম আলী বলেন, ‘এই কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছে না। ওই মাদ্রাসায় ওরা জোর করে আমার সন্তানডারে মাইরে ফেলিছেরে। কালকে দেহে (দেখে) আসলাম আমার সন্তানডারে। আসরের সময় একসঙ্গে নামাজ পড়লাম। তার শরীলি রোগ বলতি কিছু নাই। সেই সন্তানডারে রাত্রিরি হয়তো বারি (মাইর) দেছে, রগ কাইটে গেছে।’

ওই ছাত্রের বাবা আরও বলেন, ‘এরাম অসুস্থ, তোরা ফোন কর। আমাদের ফোন করিনি। সকাল ১০টায় আমাদের জানাইছে, যহন ছেলেডা বেহুঁশ হয়ে গেছে। ওর মা যায়ে দেহে ঘাড় সোজা হচ্ছে না, ঘাড় ভাঙ্গে গেছে। হাসপাতালে আমি গেলি ছেলে আমারে কিছু বলতি চাচ্ছেলো, কিন্তু বলতি পারেনি। রাত্রে ওখানে দুইজন শিক্ষক দায়িত্বে থাকে। কোন শিক্ষক যে মারিছে, তা তো বলতি পারতিছি নে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাজা হওয়া উচিত।’

এ অভিযোগ ওঠার পর পুলিশ ওই মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিয়েছে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে নড়াইল সদর থানা-পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু এ তথ্য নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, তিন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। নিহত শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার মুহতামিম (পরিচালক) নাজমুস সাহাদাত আল মামুনকে মুঠোফোনে কল করে প্রশ্ন করতেই ‘কল ব্যাক করছি’ বলে সংযোগ কেটে দেন। পরে তিনি আর ফোন করেননি। কল করা হলেও তাঁকে আর পাওয়া যায়নি।