
শরীয়তপুর সদর উপজেলার চরচটাং গ্রামে পাঁচ বছরের পুরোনো একটি কবর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এর সন্ধান করতে গিয়ে সেখানে পাওয়া গেছে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ। সোমবার বিকেলে কবরের একটি অংশ খুঁড়ে মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। এটি ২৫ দিন আগে নিখোঁজ হওয়া স্থানীয় মন্টু ব্যাপারী (৬৬) নামের এক ব্যক্তির লাশ বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নিখোঁজ মন্টু ব্যাপারী চরচটাং গ্রামেরই বাসিন্দা। যেখানে নতুন লাশটি পাওয়া গেছে, সেটি মন্টুর মামা শাহেদ আলী মাদবরের কবর। আগামীকাল মঙ্গলবার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হবে। পুলিশ কবরটি ঘিরে রেখেছে।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানা সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারীয়া ইউনিয়নের চরচটাং এলাকার মন্টু ব্যাপারী তাঁর মামাবাড়িতে বসবাস করতেন। তিনি শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, একাধিক বিয়ে করেছেন। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কোনো স্ত্রী বা সন্তানেরা থাকেন না।
২৭ মার্চ থেকে মন্টু নিখোঁজ হন। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে ১৪ এপ্রিল পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বোন মিনার বেগম। ওই জিডির তদন্ত করছিলেন আংগারীয়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সুধানশু সরকার। সোমবার ওই পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাটি তদন্ত করতে নিখোঁজ মন্টুর মামাবাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে প্রথমে একটি পরিত্যক্ত ঘরের মধ্যে একটি বড় গর্ত দেখতে পান। এরপর বাড়ির পেছনের দিকে মন্টুর মামা শাহেদ আলী মাদবরের কবরে দুর্গন্ধ পান। পাঁচ বছরের পুরোনো ওই কবর থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে দেখে পুলিশের সন্দেহ হয়। তখন স্থানীয় এক ব্যক্তিকে দিয়ে কবরের একটি অংশ খুঁড়ে দেখা হয়। তখন সেখানে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ দেখতে পাওয়া যায়।
খবর শুনে ওই বাড়িতে ছুটে আসেন মন্টুর বোন মিনারা বেগম। প্রথম আলোকে তিনি জানান, তাঁরা দুই ভাই–বোন। মা–বাবার মৃত্যুর পরে ভাই মামাবাড়িতে থাকতেন। বছর দুয়েক আগে তাঁর এক স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পরে একাই মামাবাড়িতে থাকতেন।
মিনারা বলেন, ‘ভাই (মন্টু) নিখোঁজ হওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে যখন তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন আমি মামাবাড়ির যে ঘরটিতে সে থাকত, সেখানে ছুটে আসি। ওই ঘরের পাশেই আরেকটি পরিত্যক্ত ঘরে বড় একটি গর্ত দেখে আমার সন্দেহ হয়। তখন আমি পুলিশকে ঘটনাটি জানাই। আজ পুলিশ এসে আমার মামার কবরের ভেতর ভাইয়ের লাশ রয়েছে, এমন বলছেন। কারা কেন কী উদ্দেশ্যে আমার ভাইকে মেরে মামার কবরে রেখেছে, তা বলতে পারছি না।’
মন্টু নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তাঁর মামাতো ভাই ফারুক ব্যাপারী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশিক মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুরোনো একটি কবরের মধ্যে অর্ধগলিত একটি লাশ রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও কিছু তথ্যের ভিত্তিতে আমরা সন্দেহ করছি এটি নিখোঁজ মন্টু ব্যাপারীর লাশ হতে পারে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আগামীকাল কবর থেকে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করা হবে।’