
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দফায় দফায় হামলা ও মারধরের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রেজাউল করিমকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্য সদস্যরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের গোলাম ছাদিক, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আসাদুল হক, দর্শন বিভাগের আরিফুল ইসলাম ও ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের এ নাঈম ফারুকী।
এদিকে গতকাল সোমবার মারধরের ঘটনার পর আজ সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষ বন্ধ ছিল। পরে তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পাঠকক্ষটি খুলে দেওয়া হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়ারও দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
পাঠকক্ষ পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তের প্রথম ধাপে তাঁরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এরপর রাকসু ভবন ও প্রক্টর কার্যালয়ও পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করা হবে।
গ্রন্থাগারে সংস্কারকাজ চলায় সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল জানিয়ে রেজাউল করিম বলেন, তাই ঘটনার সময় যাঁরা ভিডিও ধারণ করেছেন এবং গণমাধ্যমের ফুটেজ সংগ্রহ করে দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে। পাশাপাশি রাকসু ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলে সেখানকার ফুটেজও সংগ্রহ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রীর অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত রোববার রাতে প্রক্টর দপ্তরে বৈঠক হয়। অভিযোগ ছিল, একই বিভাগের শিক্ষার্থী মহসিন আলম তাঁকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মহসিনের পক্ষে উপস্থিত আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে প্রক্টরের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
পরদিন সোমবার বিষয়টি নিয়ে আবার বৈঠকে আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী দাবি করে মারধরের অভিযোগ ওঠে। পরে রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় হামলা, পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মধ্যে মারধরের শিকার তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে আনাস ও হাসিবকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’–সংক্রান্ত একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।