শরীয়তপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায় যাওয়ার পর চালক ও তিন নারীকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। পরে পুলিশ তাঁদের থানায় নিয়ে যায়। অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলার পর চারজনকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল রোববার দুপুরে শরীয়তপুর পৌরসভার পাকার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক চালকের নাম মো. বাদশা (৩৫)। তিনি ডামুড্যা উপজেলার ইউএনও সালাউদ্দীন আইয়ুবীর গাড়ি চালাতেন।
গত মাসে ওই তিন নারী বাসাটি ভাড়া নেন। গাড়িচালক বাদশা বিভিন্ন সময় সেখানে যাতায়াত করতেন। স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে গতকাল তাঁরা বাসায় গিয়ে চালক ও তিন নারীকে আটক করেন। পরে পুলিশ বাসার ভেতর থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
পালং মডেল থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভায় যোগ দিতে শরীয়তপুরে আসেন সালাউদ্দীন আইয়ুবী। তাঁকে কার্যালয়ে নামিয়ে দিয়ে সরকারি গাড়িটি নিয়ে পাকার মাথা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় যান গাড়িচালক বাদশা। ওই বাসায় তিন নারী ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মাসে ওই তিন নারী বাসাটি ভাড়া নেন। গাড়িচালক বাদশা বিভিন্ন সময় সেখানে যাতায়াত করতেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তাঁরা বাসায় গিয়ে চালক ও তিন নারীকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাঁদের থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, বাসার ভেতর থেকে মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেখানে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা করে। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রোববার সন্ধ্যায় তাঁদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, শরীয়তপুর পৌর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অনৈতিক কার্যক্রম চলছে—স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। তিনি জানান, সেখান থেকে একজন পুরুষ ও তিন নারীকে আটক করা হয়। তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ডামুড্যার ইউএনওর গাড়ি চালানোর জন্য সরকারি কোনো চালক নেই। তাই দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে স্থানীয়ভাবে চালক নিয়োগ দিয়ে গাড়ি চালানো হচ্ছিল। বাদশা আকন প্রায় আট বছর ধরে ইউএনওর গাড়ি চালাচ্ছিলেন।
ইউএনও সালাউদ্দীন আইয়ুবী বলেন, তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন। চালকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁকে (বাদশা) আর উপজেলা পরিষদে চালক হিসেবে রাখা হবে না। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।