সিলেট জেলার মানচিত্র
সিলেট জেলার মানচিত্র

সিলেটে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে মারধর

সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনের একটি কেন্দ্রের ভেতর জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মারধরের শিকার হন।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বালাগঞ্জ উপজেলার মৈশাষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ দিকে সিলেট মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকার ভোট কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্র দখল করে ভোট জালিয়াতির চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ, তাঁরা কেন্দ্র দখল করে ব্যালটে সিল দেওয়ার চেষ্টা করছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে বালাগঞ্জ উপজেলার মৈশাষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে সিলেট-৩ আসনে ১১-দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দীনের এক এজেন্ট ঢোকেন। ওই এজেন্ট ছিলেন স্থানীয় জামায়াতের এক নেতা। এ খবর পেয়ে বিএনপির প্রার্থী এম এ মালিকের অনুসারীরা সেখানে গিয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান।

ওই রাতে জামায়াত নেতা কেন কেন্দ্রে ঢুকলেন, এ নিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সেখানে জামায়াত ও বিএনপির আরও নেতা-কর্মী জড়ো হন। এ সময় উত্তেজিত কিছু ব্যক্তি প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে মারধর করেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

খবর পেয়ে রাত দুইটার দিকে মৈশাষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে যান বিএনপির প্রার্থী এম এ মালিক। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা রাতের আঁধারে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোট জালিয়াতির চেষ্টা করছে। তবে ধানের শীষের পক্ষে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে ওই অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে।

রাতের বেলা কেন্দ্রের ভেতরে যাওয়ার কারও সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। তিনি প্রথম আলোকে জানান, এক প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়ার জন্য জন্য ওই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সিলেট-৩ আসনে স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মীর অভিযোগ, সিলেট মহানগর ও জেলার জৈন্তাপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্র দখলে নিয়ে ভোট জালিয়াতির চেষ্টা চলাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের সহযোগিতা করছে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারাও।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেটের সব আসনে বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচনী কাজের সমন্বয়ক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ভোটে জিততে পারবে না জেনেই জামায়াত সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সারা রাত এসব কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নিয়ে পাহারা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে পাল্টা অভিযোগ তুলে জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রার্থীদের নিশ্চিত পরাজয় জেনে অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। তাঁরা বিভিন্ন কেন্দ্রের সামনে নিজেদের লোকজনদের জড়ো করছে। ভেতরে-ভেতরে তাঁরা মূলত কেন্দ্র দখলেরই চেষ্টা করছে।

জামায়াতের দলীয় নেতা-কর্মীরা কোনো কেন্দ্রে যায়নি জানিয়ে সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, ‘বরং সিলেট নগরের কয়েকটি স্থানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হচ্ছেন। এতে আমরা সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিয়ে আশঙ্কা করছি। ভোট চলাকালে বিএনপির নেতা-কর্মীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ জানাই।’

এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন উল্লেখ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা সারওয়ার আলম বলেন, দু-একটি কেন্দ্রে রাতে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব বড় কোনো ঘটনা নয়। দ্রুতই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ প্রশাসনের আছে।