কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্র
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের একটি চিকিৎসাকেন্দ্র

কক্সবাজারেও হামের প্রকোপ, এপ্রিল চার গুণ বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিল এমএসএফ

কক্সবাজারে হামের প্রকোপ বেড়েছে। সীমান্তবিহীন চিকিৎসক দল—এমএসএফ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত এপ্রিল মাসে ২৮৪ জন হামে আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছে তারা, যা এর আগের প্রথম তিন মাসের তুলনায় প্রায় চার গুণ। হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা জোরদার করার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোয় প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। এসব আশ্রয়শিবির হামের সংক্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বলে জানানো হয় এমএসএফের পাঠানো ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। এতে উল্লেখ করা হয়— ঘনবসতিপূর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাত্রার কারণে আশ্রয়শিবিরে হামের সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি বেশি। আশ্রয়শিবিরগুলোয় এখন পর্যন্ত ৩৩০ জন রোগী পাওয়া গেছে, যারা হামে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বাইরে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে ৪০ জনের হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব রোগীদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। পার্শ্ববর্তী স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও প্রায় ১৬০ জন রোগী পাওয়া গেছে।

এমএসএফের কান্ট্রি মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর মিকে স্টেনসেন্স বলেন, ‘চলতি বছরের শুরুর দিকে জেলায় নিয়মিত হামের সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছিল, কিন্তু আমরা মার্চ মাস থেকে ব্যাপক বৃদ্ধি লক্ষ্য করেছি এবং এপ্রিলে তা আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য আমাদের টিম ক্যাম্পের ভেতরে ও বাইরে, উভয় স্থানেই তৎপর রয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং অনেকের মধ্যেই গুরুতর নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।’

এপ্রিলে চিকিৎসাসেবা দেওয়া ২৮৪ জনের মধ্যে ৮২ জনের শারীরিক অবস্থা শঙ্কাজনক হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিতে হয়েছে বলে জানায় এমএসএফ। এই পরিস্থিতিতে ১৯ এপ্রিল কক্সবাজারের জামতলী আশ্রয়শিবিরে একটি নতুন আইসোলেশন ইউনিট চালু করা হয়েছে। এই ইউনিট সব আশ্রয়শিবিরের জন্য একটি রেফারেল সেন্টার হিসেবে কাজ করছে। তবে রোগীর চাপ বাড়ায় এর শয্যাসংখ্যা দ্বিগুণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানায় এমএসএফ।

ল্যাবরেটরিতে হাম সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া আশ্রয়শিবিরের রোগীদের তিন চতুর্থাংশই টিকা নেয়নি বলে জানান এমএসএফের কান্ট্রি মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর মিকে স্টেনসেন্স। তিনি বলেন, কেবল রোহিঙ্গা শিবির নয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও টিকা না নেওয়া শিশুদের হার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতিতে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।

এমএসএফ জানায়, ২৬ এপ্রিল থেকে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের শুরু করা টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করছে এমএসএফ। হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকেই টিকার আওতায় আনতে হবে। মিকে স্টেনসেন্স বলেন, ‘এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ, হাম বিশ্বের অন্যতম সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে ছড়ায়। এটি মূলত শিশুদের আক্রান্ত করে এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ থাকা জনাকীর্ণ পরিবেশে নিউমোনিয়া, পুষ্টিহীনতা ও মৃত্যুর মতো গুরুতর জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে।’

কক্সবাজারে এমএসএফ রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির এবং এর আশপাশে বেশ কিছু সেবাকেন্দ্রে হামে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জামতলী ও হাকিমপাড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র, ‘হসপিটাল অন দ্য হিল’, কুতুপালং হাসপাতাল এবং গয়ালমারা মা ও শিশু হাসপাতাল।