ভবনের গেটে গুলির চিহ্ন দেখাচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মী। সম্প্রতি তোলা
ভবনের গেটে গুলির চিহ্ন দেখাচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মী। সম্প্রতি তোলা

৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ভবনে গুলি, ৭ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

চট্টগ্রাম নগরের হামজারবাগে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে একটি ভবনের ফটকে গুলি করার ঘটনার সাত দিন পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকার লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন।

১১ আগস্ট রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। গুলি করার আগে দুপুর ১২টার দিকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা পরিশোধের জন্য এক ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ভবন মালিকের ছেলের কাছে অডিও বার্তা পাঠায় সন্ত্রাসীরা। এরপর রাতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

ঘটনার পর থেকে সবাই আতঙ্কে আছেন। গুলি করার বিষয়টি নিয়ে কেউ কথা বলবে না।
কামাল হোসেন, নিরাপত্তাকর্মী, রুনা টাওয়ার।

যে ভবনটির ফটকে গুলি করা হয়েছে, এর নাম রুনা টাওয়ার। ১১ তলার ভবনটির মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ। তাঁর দুই ছেলে প্রবাসী ব্যবসায়ী। তাঁদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি। ইউসুফ কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানের শ্বশুর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই দিন পর গ্রেপ্তার হয়ে আজিজ কারাগারে রয়েছেন।

ইউসুফের দুই ছেলের মধ্যে সম্প্রতি শওকত নামের এক ছেলে দেশে আসেন। তাঁর মুঠোফোনেই অডিও বার্তা পাঠিয়ে চাঁদা দাবি করা হয়। অডিও বার্তায় একজন বলেন, শওকতের বাবা, ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা কোথায় কী করেন, কার কোথায় কী সম্পত্তি রয়েছে, সবই জানা রয়েছে। এক ঘণ্টার মধ্যে ‘বড় ভাইয়ের’ কথামতো চাঁদা দিতে হবে। না হলে শওকতকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

গত শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনটির মালিকের পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলা যায়নি। ভবনটির নিচতলাসহ আশপাশে সিসি ক্যামেরা লাগাতে দেখা গেছে। নিরাপত্তাকর্মী কামাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে সবাই আতঙ্কে আছেন। গুলি করার বিষয়টি নিয়ে কেউ কথা বলবে না।’

জানতে চাইলে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেছে। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। জড়িতরা সন্ত্রাসী। এসব সন্ত্রাসীদের পরিচয় তদন্তের স্বার্থে জানানো যাচ্ছে না বলে জানান ওসি।

এর আগে ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

গত ১৩ জুন নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনে দুই কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও রয়েছে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ওই দুটি ঘটনার পর মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং ইমনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ইমন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় গত ২৯ জুলাই যশোর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।