
বৈদ্যুতিক কাজ করে স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে ভালোই চলছিল নুরুল আমিনের (৩৪) সংসার। কিন্তু বছর পাঁচেক আগে ময়মনসিংহের ভালুকায় একটি কারখানায় কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ডান হাত হারান। সম্প্রতি বাঁ হাতটিও অকেজো হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে থাকার একমাত্র ঘরটিও বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। একদিকে টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছিলেন না, অন্যদিকে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করা ঘরটিও মেরামত করতে পারেননি।
এ অবস্থায় তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল। তাঁর দুর্দশার কথা জানতে পেরে নিজ অর্থায়নে একটি নতুন ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করেন কায়সার কামাল। আজ শনিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরটি নুরুলকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
নুরুল আমিনের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন গ্রামে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, ঈদুল আজহার আগে নুরুল আমিনের অসহায়ত্ব তুলে ধরে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবদুর রশিদ। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। পরে সেটি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের নজরে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, নুরুল আমিনের ছাপড়া ঘরটি ভেঙে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। তিন শিশুসন্তান নিয়ে তিনি খুব কষ্টে ছিলেন। ডেপুটি স্পিকার সাহেব তাঁকে নতুন ঘর করে দিয়েছেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।
এ খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘ওই ভিডিওর মাধ্যমে সবার সহযোগিতা চেয়েছিলাম। বিষয়টি ডেপুটি স্পিকারের নজরে আসার পর তিনি যোগাযোগ করে নুরুল আমিনকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদের জামাকাপড়সহ কিছু খাদ্যসামগ্রী ও বিভিন্ন উপহার পাঠিয়েছেন।’
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন নুরুল আমিন। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির সময় ভাঙা ঘরের ভেতর পানিতে ভিজে আমরা খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছি। অনেক রাত না ঘুমিয়ে পলিথিন ও ছাতা টানিয়ে কাটাতে হয়েছে। কখনো ভাবিনি, আমার মতো একজন অসহায় মানুষের জন্য কেউ নতুন ঘর করে দেবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কায়সার কামাল বলেন, ‘মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই দ্রুত নুরুল আমিনের জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিই। আমি বিশ্বাস করি, সমাজে যার যার অবস্থান থেকে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। মানুষের দুঃসময়ে সহযোগিতা করাই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়।’