
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বসা ও উচ্চস্বরে কথা বলা নিয়ে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আজ রোববার দুপুর থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর, প্রধান ফটক, প্রকৌশল অনুষদ ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির পর শহরমুখী বাসও কিছু সময় আটকে দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল দলের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিকেল থেকে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত আছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে বসা ও উচ্চস্বরে কথা বলা নিয়ে প্রকৌশল অনুষদের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর কার্যালয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসাও করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম এম শরিফুল করীম বলেন, দুপুরে লাইব্রেরিতে বসাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টির সমাধানও হয়ে যায়। কিন্তু এর মধ্যে কয়েকজন হলে গিয়ে আবার উত্তেজনা তৈরি করেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, প্রক্টর কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর ও প্রধান ফটকের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে আবার পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে প্রকৌশল অনুষদের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে একদল শিক্ষার্থী অন্য পক্ষকে ধাওয়া করে শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের দিকে নিয়ে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব ও শাকিলের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত হয়। ওই বিরোধের জেরে সাকিব ও শাকিলের সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী আইসিটি বিভাগে গেলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে সংঘর্ষ বাধে।
একপর্যায়ে শাকিলকে ধাওয়া করা হলে তিনি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলে গিয়ে আশ্রয় নেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান। পরে হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এতে প্রত্নতত্ত্ব ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীও জড়িয়ে পড়েন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিক্যাল অফিসার মাহমুদুল হাসান খান বলেন, মারামারিতে মোট ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহত কয়েকজনকে কুমিল্লা শহরের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত দুজনের মাথায় আঘাত লেগেছে এবং একজনের হাত ভেঙেছে। তবে আহত ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘দুপুরে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলাম। এরপরও ক্যাম্পাসের গেট ও দত্ত হলে গিয়ে আবার মারামারি হয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ ও সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করব। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল দলের সদস্যরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ এখন স্বাভাবিক।