
বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার ঘটনাস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ফাটাপাড়ার অনেকেই এখন ঘরছাড়া। যে কালামের বাড়িতে বোমা বানানো হচ্ছিল, পালিয়ে থাকা ব্যক্তিদের অধিকাংশই তাঁর বংশের লোক। আজ সোমবার এমনটাই দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য, কালামের ভাই দুলালের নির্দেশে বোমা বানানোর কাজ চলছিল। কয়েক বছর আগেও দুলাল আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিলেন। তবে সীমান্তকেন্দ্রিক অবৈধ ব্যবসা করে তিনি বেশ টাকা–পয়সার মালিক হন। তিনি এলাকায় ‘মাদক সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বরখাস্ত ও পলাতক চেয়ারম্যান চার হত্যা মামলার আসামি শহীদ রানা ওরফে টিপুর ঘনিষ্ঠ। তিনি আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। নির্বাচনের আগে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।
এ কথার সত্যতা পাওয়া গেল স্থানীয় জামায়াত নেতা লতিফুর রহমানের কথাতে। তিনি বলেন, জাহান্নামের পথ ছেড়ে জান্নাতের পথে আসা দুলাল এখন নিজেই তো জাহান্নামের পথে গেলেন। তাঁর খেটে খাওয়া ভাই কালামসহ বংশের লোকজনের জীবনও এখন জাহান্নাম বানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বংশের শ খানেক লোক এখন ঘরছাড়া। তাদের অনেকেই কৃষক। বোরো ধানের জমিতে বালুমাটির এলাকায় প্রতিদিনই পানি দিতে হয়। এখন পানিশূন্য পড়ে থাকবে জমিগুলো। এলাকার পরিস্থিতি এখন থমথমে।
জামায়াতের এই নেতার ভাষ্য, সাবেক চেয়ারম্যান শহীদ রানার অনুপস্থিতিতে নিজে নেতা হতে চেয়েছিলেন দুলাল। এ জন্য এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে প্রতিপক্ষের নেতা–কর্মীদের বাড়িতে হামলা ও ত্রাস সৃষ্টির জন্য বোমাগুলো বানানো হচ্ছিল। প্রতিপক্ষের বাড়ি বাড়ি হামলার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
গতকাল রোববার ঘটনাস্থলের পাশের গ্রাম সোনাপট্টিতে জোহরের নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে আসা লোকজনের সঙ্গে কথা হয়। সেখানে একজন মুক্তিযোদ্ধাসহ ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার কয়েকজন সমর্থক ছিলেন। তাঁদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার ভোটের দিন রাতে ফাটাপাড়ায় বিএনপির ইউনিয়ন সভাপতি ও ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিনসহ কয়েকজনের বাড়িতে জামায়াতের বিজয় মিছিল থেকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়। পরে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির লোকজনের ওপর হামলার পরিকল্পনা থেকে বোমাগুলো বানানো হচ্ছিল। সারা রাত বোমাগুলো ব্যাগে করে ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের ভাষ্য।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিপক্ষের লোকজনকে ঘায়েল করার জন্যই বোমাগুলো বানানো হচ্ছিল। ব্যাগে রাখা অনেকগুলো বোমার একসঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর তীব্রতায় ঘরের দেয়াল ধসে গেছে। উড়ে গেছে টিনের চাল।