শেরপুর–১ (সদর) আসনে সকাল থেকে নারী ভোটারের দীর্ঘ সারি। ভোটে ধীরগতি থাকায় অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দিঘারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে
শেরপুর–১ (সদর) আসনে সকাল থেকে নারী ভোটারের দীর্ঘ সারি। ভোটে ধীরগতি থাকায় অনেকেই বিরক্তি প্রকাশ করেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় দিঘারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে

শেরপুরের চিত্র

‘মেলাহন ধইরা লাইনে দাঁড়াইয়া আছি, ভোট চলতাছে আস্তে আস্তে’

সকালের মিঠে রোদ উঁকি দিচ্ছে সবে। এ সময়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটদানের অপেক্ষায় ছিলেন শেরপুর শহরের চকপাঠক মহল্লার ভোটার ফরিদা বেগম (৫৫)। ঘড়িতে সময় তখন সকাল ৭টা ৪০ মিনিট। বেলা বেড়ে সাড়ে আটটা বাজলেও তাঁর ভোট দেওয়া হয়নি। আক্ষেপের সুরে তিনি বলছিলেন, ‘মেলাহন ধইরা লাইনে দাঁড়াইয়া আছি, ভোট চলতাছে আস্তে আস্তে।’

শেরপুর–১ (সদর) আসনের গোবিন্দ কুমার পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে তখন নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ তেতে উঠেছে। অনেকেই রোদ এড়াতে মাথায় ওড়না টেনে নিয়েছেন। তাঁদের একজন জুলেখা বেগম (৫৬)। তিনি বলেন, ‘সকালে আইছি ভিড় এড়াইতে, তা–ও সময় লাগতাছে বেশি।’

গোবিন্দ কুমার পাইলট উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ১৭৬ জানিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হেফজুল আলম বলেন, ‘কেন্দ্রটিতে ভোটার বেশি হওয়ায় কিছুটা সময় লাগছে। তবে দ্রুত ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

সকাল ৯টার দিকে শহরের অদূরে দিঘারপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও নারী ও পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শাহিন মিয়া জানান, এ কেন্দ্রে বুথ আটটি। কিন্তু কক্ষসংকটের কারণে চারটি কক্ষে ভোট নেওয়া হচ্ছে। তাই ভোটারদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

সকাল সাড়ে সাতটা থেকে জেলার দুটি সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। সকালবেলায় উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করে।

শহরের অষ্টমীতলা এলাকায় শেরপুর মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রেও সকাল সাড়ে সাতটায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। তবে সকাল পৌনে আটটার দিকে সেখানে ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, সেখানে ৩ হাজার ১৭১ ভোটার আছেন। বেলা বাড়লে উপস্থিতি বাড়বে।

শেরপুর–১ (সদর) আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ছয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৪৫টি ভোটকেন্দ্রে ৮৫৬টি ভোটকক্ষের মাধ্যমে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯২ ভোটার নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এর মধ্যে ৬৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে শেরপুর–২ (নকলা ও নালিতাবাড়ী) আসনে মোট চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৫৪টি ভোটকেন্দ্রে ৮২০টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৪ ভোটার ভোট দিচ্ছেন। এ আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আছে ৬৫টি। দুই আসন মিলিয়ে নতুন ভোটার আছেন ৫৫ হাজার ১৬৩। তবে শেরপুর–৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত আছে।

অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা দেখা গেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে অস্ত্রধারী পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন আছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৫ হাজার ৫০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। মাঠে আছেন ৩০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় বডি–ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। সক্রিয় আছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও।