
খুলনা নগরের নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে ঢুকে চায়নিজ কুড়াল দিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছেন পাঁচ যুবক। হামলাকারী যুবকেরা ওই প্রতিষ্ঠানের কাচের দরজা-জানালা, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি), টেলিভিশন, অভ্যর্থনাকক্ষের কাউন্টারসহ বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করেন।
আজ শনিবার বেলা একটার দিকে শহরের খানজাহান আলী সড়কের পিটিআই মোড় এলাকার প্রতিষ্ঠানটিতে এ হামলা চালানো হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীর মুঠোফোনও নিয়ে যান হামলাকারী যুবকেরা। হামলার সময় ভেতরে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে এক মাসের ব্যবধানে খুলনা শহরের চতুর্থ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হলো।
হামলায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই দুইজনকে আগেও দেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁরা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।শফিকুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ কমিশনার, খুলনা মহানগর পুলিশ
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পাঁচ যুবক চায়নিজ কুড়াল নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে প্রবেশ করেন। এরপর তাঁরা ভাঙচুর শুরু করেন। আকস্মিক এ ঘটনায় ভেতরে থাকা রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলাকারী যুবকদের একজন পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। ভাঙচুর শেষে তাঁরা নিজেরাই সেখান থেকে চলে যান।
নিউ অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন জানান, কয়েক দিন আগে শহরের টুটপাড়ার নূর আজিমের বাহিনীর পরিচয় দিয়ে একজন তাঁকে ফোন করেছিলেন। তিনি ওই নামে কাউকে চেনেন না বলে জানান। এরপর অপর প্রান্ত থেকে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এর বাইরে তাঁর আর কিছু জানা নেই।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, প্রথমে মুখে মাস্ক পরতে পরতে একজন যুবক চাইনিজ কুড়াল নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতরে ঢুকছেন। এরপর আরও চারজন কুড়াল নিয়ে ভেতরে ঢোকেন। ঢোকার পর তাঁরা ভাঙচুর চালাতে থাকেন। এসময় অপেক্ষমান রোগীদের আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। ভাচুরের পর অপেক্ষমান রোগীদের বসার চেয়ারে লাথি মারতে মারতে তারা বেরিয়ে যান।
নূর আজিমের দলের সদস্যরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছেন খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, হামলায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। ওই দুইজনকে আগেও দেশি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁরা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত অক্টোবরের মাঝামাঝি নগরের রয়েল মোড়ের সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরপর ২৪ অক্টোবর নগরের সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান মুখোশধারী ৮ থেকে ১০ জন। তাঁরা চিকিৎসকদের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার-টেবিল ও ক্যাশ কাউন্টার ভাঙচুর করেন। যাওয়ার সময় ক্লিনিকের বাইরে ফাঁকা গুলিও ছোড়েন।
৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরের শামসুর রহমান সড়কের রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি।
এসব হামলার বিষয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছেন না। তবে সন্ধানী ক্লিনিকের বাইরে গুলির খোসা পাওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।