
তখন সকাল আটটা। ভোটকেন্দ্রে আসতে শুরু করেছেন ভোটাররা। এক নারীর হাত ধরে কেন্দ্রে এসেছেন বয়সের ভারে ন্যুব্জ বৃদ্ধা ওজিবা খাতুন। অনেক কষ্টে কুঁজো হয়ে হেঁটে বুথে ঢুকে ভোট দিয়ে বেরিয়েছেন তিনি। ভোট দেওয়ার অনুভূতি জানতে চাইলে এই বৃদ্ধা বলেন, ‘এটি হয়তো আমার জীবনের শেষ ভোট।’
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় উপজেলা সদরের সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। ওজিফা খাতুন মিরসরাই পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গোবানিয়া এলাকার বাসিন্দা।
ওজিফা খাতুনের ভাইয়ের ছেলে জাহেদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ফুফুর বয়স এক শ ছাড়িয়েছে। সকাল থেকে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে উদ্গ্রীব হয়ে ছিলেন তিনি। আমরা তাঁকে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছি। সকাল সকাল কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পেরে দারুণ খুশি তিনি।’
জানতে চাইলে ওজিফা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে। এই জীবনে অনেকবার ভোট দিয়েছি। শরীর অসুস্থ, তবু এবার নিজের ভোটটা দিতে এসেছি। মনে হচ্ছে আর বেশি দিন বাঁচব না। এবারের দেওয়া ভোটই হয়তো আমার শেষ ভোট। আমি চাই ভোটের মাধ্যমে দেশে শান্তি ফিরে আসুক।’
মিরসরাই সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৃদ্ধ ওজিফা খাতুন এই কেন্দ্রে সকালে এসে ভোট দিয়েছেন। তার বয়স এক শ বছরের বেশি হবে। এই কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার ৯৭৫। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। এই কেন্দ্রে এখনো পর্যন্ত কোনো রকম অনিয়ম হয়নি।’