
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আন্তজেলা রুটে যানবাহনের সংকট দেখা দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জে লোকাল বাসগুলো এখন দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনে নেমেছে। এ কারণে বাড়ছে যাত্রী দুর্ভোগ, তেমনি কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন–সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড ও কাঁচপুর এলাকায় এমন অসংখ্য চিত্র দেখা গেছে।
নারায়ণগঞ্জের ওপর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক হয়ে অন্তত ২১টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় লোকাল লক্কড়ঝক্কড় বাসগুলো এখন ভৈরবসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে চলাচল করছে। এসব বাসের অধিকাংশই ফিটনেসবিহীন এবং মহাসড়কে চলাচলের উপযোগী নয়। তবু ঈদে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ও বেশি মুনাফার আশায় ঝুঁকি নিয়ে দূরযাত্রায় নামানো হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-মেঘনাঘাট রুটে চলাচলকারী বোরাক পরিবহনের বাসগুলোকে ভৈরব রুটে যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। এই পরিবহনের একটি বাসের চালক সাব্বির মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে যানবাহনের সংকট ও যাত্রীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা ভৈরব রুটের যাত্রী পরিবহন করছেন। ভৈরবগামী যাত্রীদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অথচ এই গন্তব্যে স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া প্রায় ১০০ টাকা।
একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে সময় পরিবহনের ক্ষেত্রেও। সাধারণত শাহবাগ-ভুলতা রুটে চলাচলকারী এই পরিবহনের বাসগুলো এখন নরসিংদী ও ভৈরবমুখী যাত্রী তুলছে। ঈদ উপলক্ষে এ রকম লোকাল অনেক বাস ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়কে যাত্রী পরিবহন করছে। সময় পরিবহনের বাসের চালক মো. সুজন বলেন, সরাসরি ভৈরব যাওয়ার শর্তে তাঁরা ২৫০ টাকা ভাড়া নিচ্ছেন। ফলে ঘরমুখী যাত্রীদের উপকার হচ্ছে।
এদিকে মহাসড়কের বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, বাসের জন্য শত শত যাত্রী অপেক্ষা করছেন। অনেক ক্ষেত্রেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না, আর পাওয়া গেলেও দাম স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি জেনেও লোকাল বাসে উঠছেন তাঁরা।
সানোয়ার হোসেন নামে এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘টিকিট তো পাওয়া যাচ্ছে না, আর পেলেও দাম দুই-তিন গুণ বেশি। তাই বাধ্য হয়ে ভাঙাচোরা লোকাল বাসে উঠেছি। ১০০ টাকার ভাড়া এখন আড়াই শ টাকা নিচ্ছে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই।’ তাবাসসুম আক্তার নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘সকালে আসছি। কোনো গাড়ি পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে লোকাল গাড়িতে উঠেছি। বাড়ি তো যেতে হবে। ভাড়া বেশি নিলেও উপায় নেই।’
দূরপাল্লার পরিবহন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, স্বল্প দূরত্বে চলাচলের জন্য তৈরি এসব বাসের ব্রেক ও ইঞ্জিন উচ্চগতির মহাসড়কের জন্য উপযোগী নয়। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে দূরপাল্লায় চলাচলের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ঢাকা–কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী তিশা পরিবহনের চালক সুজন মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, দূরপাল্লার যানবাহন সাধারণত ৮০ কিলোমিটার বা তার বেশি গতিতে চলাচল করে। কিন্তু লোকাল বাসগুলো সে গতিতে চলতে পারে না। বিশেষ করে লক্কড়ঝক্কড় অবস্থার গাড়ি হলে দূরপাল্লার গাড়ির সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া ব্রেক ও গাড়ির ফিটনেস ঠিক থাকা অত্যন্ত জরুরি, অন্যথায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
যাত্রীদের দাবি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও রুট পরিবর্তনের অনিয়ম বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তা না হলে ঈদযাত্রা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক বিষ্ণু পদ শর্মা প্রথম আলোকে বলেন, লোকাল গাড়িতে করে দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ। পোশাক কারখানার শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষেরা এসব পরিবহন ব্যবহার করছেন। এগুলোতে যাতায়াত পরিহার করতে হবে। এসব গাড়ি চলাচল করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।