সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কে নির্বিচার গাছ কাটা হয়। গত বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আহমদাবাদ এলাকায়
সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কে নির্বিচার গাছ কাটা হয়। গত বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আহমদাবাদ এলাকায়

সুনামগঞ্জে এক সড়কের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার গাছ কাটার প্রতিবাদে সমাবেশ

সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কে কয়েক হাজার গাছ কাটার প্রতিবাদে সমাবেশ হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইচ্ছারচর এলাকায় ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’ সংগঠনের উদ্যোগে এ সমাবেশ হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জেলা সদর থেকে জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজার পর্যন্ত ১৯ কিলোমিটার সড়কে প্রায় সাড়ে চার হাজার গাছ কাটছে বন বিভাগ। ইতিমধ্যে এক হাজারের বেশি গাছ কাটা হয়েছে। দ্রুত গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।

বক্তারা বলেন, দুই বছর আগেও একইভাবে গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন মানুষের প্রতিবাদের মুখে গাছ কাটা বন্ধ করা হয়। এবার সড়ক সম্প্রসারণ ও সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা বলে গাছ কাটা হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, বন বিভাগ সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং সড়ক সম্প্রসারণকে গাছ কাটার কারণ হিসেবে উল্লেখ করছে। তবে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা গাছ কাটার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। গাছের উপকারভোগীদের সঙ্গেও কথা বলা হয়েছে। তাঁরাও কোনো টাকা পাননি এবং গাছ কাটার বিষয়ে কিছু জানেন না।

সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কে নির্বিচার গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন। আজ শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ইচ্ছারচর এলাকায়

বক্তাদের অভিযোগ, বন বিভাগের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট এই গাছ কাটার সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা বলেন, একদিকে মানুষকে গাছ লাগাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে বন বিভাগ নানা কৌশলে গাছ কাটছে।

সমাবেশে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি মোহাম্মদ রাজু আহমেদ, সহসভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম ও ওবায়দুল মুন্সী, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক, সংগঠনের সদস্য এম ডি জাকারিয়া, সুজন তালুকদার ও মোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।

আমাদের আন্দোলনের ফলে দুই বছর আগে গাছগুলো রক্ষা পেয়েছিল। আবার গোপনে কাউকে না জানিয়ে গাছ কাটার সব প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। এখন নির্বিচার গাছ কাটা শুরু হয়েছে। দ্রুত গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।
মোহাম্মদ রাজু আহমেদ, সুনামগঞ্জ নদী রক্ষা আন্দোলনের সভাপতি

মোহাম্মদ রাজু আহমেদ বলেন, ‘আমাদের আন্দোলনের ফলে দুই বছর আগে গাছগুলো রক্ষা পেয়েছিল। আবার গোপনে কাউকে না জানিয়ে গাছ কাটার সব প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। এখন নির্বিচার গাছ কাটা শুরু হয়েছে। দ্রুত গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে।’

গাছগুলো সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে রোপণ করা হয়েছিল জানিয়ে বন বিভাগের সুনামগঞ্জ রেঞ্জ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, স্থানীয় লোকজন এসব গাছের পরিচর্যা করেছেন। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় নিয়মতান্ত্রিকভাবে গাছগুলো বিক্রি করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে। পরে সড়কের দুই পাশে আবার গাছ লাগানো হবে।