
বিএনপি ও জামায়াতের ডাকা টানা তিন দিনের অবরোধের প্রথম দিন আজ মঙ্গলবার সকাল নয়টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৮ থেকে ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে অবরোধকারীরা। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানার পুলিশ ১০ ব্যক্তিকে আটক করেছে। এ ছাড়া সকালে নগরের শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে জামায়াত-শিবিরের কর্মী সন্দেহে আটজনকে আটক করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম নগরে সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, রিকশা ও অল্প কিছু গণপরিবহন চলাচল করেছে। শহরের রাস্তাঘাট ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় ফাঁকা। ব্যক্তিগত গাড়ি তেমন একটা দেখা যায়নি। দূরপাল্লার কোনো যানবাহনও চলাচল করেনি। নগরের অলংকার ও কর্নেলহাট এলাকায় আটকে পড়েছেন বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা। অনেকেই ছোট যানবাহনে গন্তব্যের দিকে রওনা দেন।
চট্টগ্রাম নগর থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এ ছাড়া উপজেলাগামী বাসও ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। আজ সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত নগরের দামপাড়া, জিইসি, দুই নম্বর গেট, অলংকার, কর্নেলহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর, শুলকবহর, বহদ্দারহাট, এক কিলোমিটার, চান্দগাঁও, রাহাত্তারপুল, চকবাজার, কালামিয়া বাজার, চাক্তাই, রাজাখালী, শাহ আমানত সেতু মোড় ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি হুইলার চলাচল করেছে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ি তেমন দেখা যায়নি।
তবে দূরপাল্লার বাস না চলায় শাহ আমানত সেতু এলাকায় কক্সবাজার-টেকনাফগামী বাসের প্রায় সব কটি কাউন্টার বন্ধ দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে নগরের অলংকার ও কর্নেলহাট এলাকার বাস কাউন্টারগুলোয়।
সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শাহ আমানত সেতু এলাকায় দেখা গেছে, সিএনজি অটোরিকশাসহ থ্রি হুইলারে করে সেতু পারাপার করে গন্তব্যে যাচ্ছেন যাত্রীরা।
পটিয়ায় কর্মস্থলে উদ্দেশে যাওয়া মোহাম্মদ খলিলুর রহমান নামের এক বেসরকারি কোম্পানির কর্মকর্তা বলেন, কাজ থাকায় বের হয়েছেন তিনি। নগরে গাড়ি চললেও এখানে এসে গাড়ি পাচ্ছেন না। থ্রি হুইলারে সেতু পার হয়ে সেখান থেকে আরেকটি গাড়িতে করে কর্মস্থলে যাবেন।
আজ সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শাহ আমানত সেতু মোড় থেকে জিইসি মোড় পর্যন্ত সড়কে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের অবস্থান চোখে পড়েনি। তবে বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ ও সাদাপোশাকে গোয়েন্দা পুলিশের অবস্থান দেখা গেছে।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরের শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে সাত থেকে আটজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় বাকলিয়া থানার পুলিশ। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, সাড়ে ৮টার দিকে জামায়াত-শিবির সন্দেহে কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁরা সড়কে বিশৃঙ্খলা করার উদ্দেশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর ইউনিয়নের পাক্কা রাস্তা মাথা এলাকায় ৮ থেকে ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন অবরোধকারীরা। আজ সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ১০ জনকে আটক করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আজ ভোর থেকে ঢাকাসহ দেশে বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা গাড়িগুলো চট্টগ্রাম নগরে ঢুকছিল অন্যান্য দিনের মতোই। সকাল ৯টার দিকে হঠাৎ বেশ কিছু লোক মিছিল করে মহাসড়কে উঠে চট্টগ্রামমুখী সেসব যানবাহনের ৮ থেকে ১০টি ভাঙচুর করেন। খবর পেয়ে চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে আটক করে।
এ বিষয়ে আকবর শাহ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমা পারভীন প্রথম আলোকে বলেন, মহাসড়কে মিছিল করার চেষ্টার সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। তবে গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি তিনি জানেন না।
মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে টহল দিয়েছেন বিজিবির সদস্যরা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে কাভার্ড ভ্যান ও মালবাহী ট্রাকের চলাচল ছিল। সড়কে পর্যাপ্ত ছোট যানবাহন চলায় স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের চলাচলে তেমন অসুবিধা হয়নি। এ সময় সড়কে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। তবে মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিলেও বিএনপি–জামায়াতের উপস্থিতি চোখে পড়েনি কোথাও।
(প্রতিবেদন তৈরি করেছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম এবং সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই প্রতিনিধি)