
ফেনী–৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু জনসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিনই যাচ্ছেন বিভিন্ন গ্রামে, শুনছেন ভোটারদের কথা। তাঁদের কাছে তুলে ধরেছেন ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাও।
আজ বুধবার সকালেই শুরু হয় বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতার নির্বাচনী কর্মসূচি। সকাল ১০টায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে নির্বাচনী এলাকা সোনাগাজীতে যান তিনি। এ সময় সমর্থকদের গাড়িবহর অনুসরণ করে তাঁকে। দুপুর পর্যন্ত আবদুল আউয়াল মিন্টু সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ১০টি স্থানে জনসংযোগ করেন। মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ডাকবাংলো থেকে মঙ্গলকান্দি স্কুল, দারোগারহাট, বিজয়নগর, শান্তিনগর, মতিগঞ্জ বাস স্টেশন, আবুল মামার দরবার, স্বরাজপুর, জিতপুর তেমুহনি, রিয়াজ উদ্দিন মুন্সিবাড়ি ও সুলেখালিতে জনসংযোগ করেন তিনি।
জনসংযোগের সময় গ্রামীণ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে গ্রামবাসী হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান আবদুল আউয়াল মিন্টুকে। এ সময় তিনিও বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থেকে নেমে তাঁদের সঙ্গে হাত মেলান এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। কোথাও কোথাও তিনি গাড়ির ছাদ খুলে হ্যান্ড মাইকে বক্তব্যও দেন। অংশ নেন পথসভায়। গ্রামের পথে পথে তাঁর গাড়িবহর ঘিরে ছিল উৎসুক জনতার ভিড়।
মতিগঞ্জে অনুষ্ঠিত একটি পথসভায় মিন্টু বলেন, ‘বিএনপি মানুষের জন্য রাজনীতি করে। দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা একমাত্র এই দলেরই রয়েছে। দেশের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান চাইলে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।’
দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত আবদুল আউয়াল মিন্টু সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের তেমুহনি কাদির ডিলার, চরখোয়াজ স্কুল–সংলগ্ন, ফুলকুঁড়ি নগর, মনগাজী বাজার, হোসাইনিয়া মাদ্রাসা, ভৈরব চৌধুরী বাজার ও সাহাপুর এলাকায় জনসংযোগ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহেনা আক্তার, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, সদস্যসচিব সৈয়দ আলম ভূঞা, যুগ্ম আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন, সোনাগাজী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা, সদস্যসচিব প্রবীর ও মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিনসহ দলীয় নেতা–কর্মীরা।
গ্রামবাসীর উদ্দেশে মিন্টু বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশে যে নাজুক অর্থনৈতিক অবস্থা রয়েছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য এ মুহূর্তে বিএনপিকে প্রয়োজন। বিএনপির অতীত অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিএনপি দেশকে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে।’
মিন্টু আরও বলেন, ‘একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে কর্মসংস্থান তৈরি করা। বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীকে বেকার রেখে কোনো দেশই অর্থনৈতিকভাবে উন্নতি করতে পারে না। এই দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে হলে সবার আগে কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকার সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ জন্য দলের বড় পরিকল্পনা রয়েছে।’
মিন্টুকে দেখতে এসেছি
সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পালগিরি গ্রামের ষাটোর্ধ্ব আবুল কাশেম বলেন, ‘আবদুল আউয়াল মিন্টু একজন ভালো মানুষ। আগে কখনো তাঁকে সামনাসামনি দেখিনি, আজ তাঁকে দেখতে এসেছি। আমরা চাই, আমাদের এলাকা সন্ত্রাসমুক্ত হোক। তিনি এমপি হলে ভোটের পর যেন আমাদের খোঁজ রাখেন।’
বিজয়নগর দক্ষিণ পালগিরি গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব সুরমা আক্তার গত কয়েকটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। এবার তিনি ভোট দেবেন। তিনি বলেন, ‘আমরার খোঁজখবর লয় না। অনেক দিন ভোট দিতাম হারি ন।’
চর দরবেশ গ্রামের ব্যাপারী বাড়ির অশীতিপর আবুল হাশেম মিস্ত্রি ও বিন্নী আক্তার নামের পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীসহ সবারই চাওয়া একটি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন। এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি তাঁরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুণগত উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মাদকের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্তি চান। নির্বাচনে জনপ্রতিনিধিরা এসব দিকে নজর দেবেন, এমনটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
ফেনী–৩ আসনে যত ভোটার
ফেনী–৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩ হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে দাগনভূঞা উপজেলায় ২ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮৪ জন। পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৭১ জন, নারী ১ লাখ ১৯ হাজার ৪১২ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। এ উপজেলায় নিবন্ধিত নতুন ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজার ৯৭০।
সোনাগাজী উপজেলায় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭০৩ ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩০ হাজার ৮২৯ জন, নারী ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৩ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ১। এ উপজেলায় নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন ৯ হাজার ৭৪২ জন।
এই আসনের দাগনভূঞা উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৭৮টি ও ভোটকক্ষ ৪৫৭টি। সোনাগাজী উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৮৩টি ও ভোটকক্ষ ৪৬০টি।