
বগুড়া-৬ আসনের (সদর) উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম (বাদশা) বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ৭৬ হাজার ৭৭২ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমানকে (সোহেল) পরাজিত করেন।
একই দিন অনুষ্ঠিত শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল)। তিনি ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৬ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমানকে পরাজিত করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত আসন দুটিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে রাত নয়টার দিকে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, বগুড়া–৬ উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান দাঁড়িপাল্লায় পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯ ভোট।
উপনির্বাচন ঘিরে দিনভর নানা অভিযোগ তোলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান। দুপুরে মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা বিএনপির পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। ফলে মাগুরার মতো বগুড়া-৬-এ একটি প্রহসনের উপনির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে আসনটিতে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই সঙ্গে তিনি ঢাকা-১৭ আসনেও বিজয়ী হন। পরে তিনি বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ায় উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
বগুড়ার অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপনির্বাচনে সহকারী রিটানিং কর্মকর্তা আছিয়া খাতুন বলেন, উপনির্বাচনে ১৫১টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৪৩ শতাংশ।
শেরপুর–৩ নির্বাচনে মোট ১২৯টি কেন্দ্রে (একটি পোস্টাল) ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারিভাবে ঘোষিত সব কটি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল) ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। অপর প্রার্থী বাসদের মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৪৮০ ভোট। এখানে ভোট পড়েছে ৫২ দশমিক ১৯ শতাংশ।
এর আগে বেলা পৌনে তিনটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনকে ‘প্রহসনমূলক’ আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান। তিনি বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের সিল দিতে বাধ্য করা, বুথ দখল, এজেন্টদের বের করে দেওয়া ও হামলার অভিযোগ তোলেন। হামলার ঘটনায় জামায়াতের এক নেতা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলেও জানান জামায়াতের এই প্রার্থী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে এ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরে তাঁর ছোট ভাই মাসুদুর রহমানকে প্রার্থী করে জামায়াত।