রংপুরে চুরির অভিযোগে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন ও চুল কেটে দেওয়া হয়েছে
রংপুরে চুরির অভিযোগে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন ও চুল কেটে দেওয়া হয়েছে

রংপুরে চুরির অভিযোগে যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, পরে উদ্ধার করল পুলিশ

রংপুরে চুরির অভিযোগে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন ও চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার সকালে নগরের ক্যাসপিয়া হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় আট ঘণ্টা পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার রিফাতুর রহমান (৩১) রংপুর নগরের নিউ জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গতকাল রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে চুরির অভিযোগে তাঁকে আটক করেন ক্যাসপিয়া হোটেলের নৈশপ্রহরীরা। রাতে তাঁকে হোটেলের ভেতরে এবং সকালে বাইরে একটি সিঁড়িতে পা থেকে কোমর পর্যন্ত মোটা রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। তাঁর হাত বাঁধা ছিল বৈদ্যুতিক তার দিয়ে।

ক্যাসপিয়া হোটেলের ব্যবস্থাপক শহীদ আখতার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় নয়টি এসির পাইপ চুরি করেছে। জেনারেটরের ব্যাটারি চুরি করেছে। অনেক তার চুরি করেছে। গতকালকেও একটা এসির পাইপ কাটতে যেয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে।’

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রিফাতুর তখনো হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছেন। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। রিফাতুর বলেন, ‘আমি ভুল করেছি স্যার। আমি তো পাই না। কিছু পাই নাই।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন প্রথম আলোকে জানান, সকাল ১০টার পর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই যুবকের চুল কাঁচি দিয়ে কেটে দেন ক্যাসপিয়া হোটেলের নিচে ড্রিম টাচ বিউটি পারলারের মালিক সালমা আখতার। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও প্রথম আলোর হাতে এসেছে। ভিডিওতে সালমা ছাড়াও আরও এক ব্যক্তিকে চুল কাটতে দেখা যায়। সেখানে কিছু কাটা চুলও পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

সালমার দাবি, এর আগে তাঁর দুটি এসি চুরি হয়েছে। চুল কেটে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চুলি কাটি দিব না তো কী করব কন। ও দুই শ টাকা বিক্রি করছে এখন কত টাকা ক্ষতি হলো। আমার এত বড় ক্ষতি করছে, সেটা দেখলেন না। চুল কাটি দেওয়াটা দেখলেন?’

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রিফাতুরকে উদ্ধার করে রংপুর মহানগরের কোতোয়ালি থানার পুলিশ। এ সময় কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েল মিয়া বলেন, ‘তাঁর শরীরে আঘাত আছে। চিকিৎসার জন্য নিচ্ছি। এটা অবশ্যই অনুচিত। চোর ধরলে তো মারতে পারেন না কেউ। আইনগত প্রক্রিয়া আছে। কারও আইন হাতে তোলার ক্ষমতা নেই। এখন যেহেতু সে আঘাতপ্রাপ্ত আমরা হাসপাতালে নিয়া ফাস্ট এইড দিব। তাঁরা যদি আইনগত ব্যবস্থা নিতে চায়, মামলা দিবে, মামলা নিব।’