রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার দুটি বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় একজনও পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে একটি বিদ্যালয়ে ৯ জন শিক্ষক থাকলেও ১৮ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। অন্য বিদ্যালয়টিতেও ১৫ পরীক্ষার্থীর কেউ পাস করেনি।
বিদ্যালয় দুটি হলো উপজেলার চতড়া ইউনিয়নের কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয় এবং ঘাষিপুর উচ্চবিদ্যালয়। পরপর দুই বছরের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান দুটির শিক্ষার্থীদের সাফল্যের হার বেশ কম। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা বিদ্যালয় দুটির পাঠদানের মান, শিক্ষক উপস্থিতি ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নে অবস্থিত বটতলী নমিরুল দাখিল মাদ্রাসায় পাঁচ পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও একজনও পাস করেনি।
কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়
বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৯ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী রয়েছেন। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, তাদের একজনও উত্তীর্ণ হয়নি। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৫৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ২৯ জন। গত বছর যেখানে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছিল, এবার সেখানে পাসের হার নেমে এসেছে শূন্যে।
স্থানীয় যুবক মানিক মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘৯ জন শিক্ষক থাকার পরও ১৮ জন পরীক্ষার্থীর একজনও পাস না করার কারণ কী? শিক্ষার্থীদের পাঠদানে কোথাও ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার? আমরা চাই, বিদ্যালয়টি যেন কারও গাফিলতির কারণে ধ্বংস হয়ে না যায়।’
এ বিষয়ে জানতে কুমারপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কহিনুর বেগমের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘এখন ব্যস্ত, এ বিষয়ে পরে কথা বলব’, বলে মুঠোফোন বন্ধ করে দেন।
এবারে শিক্ষার্থীরা একটু দুর্বল ছিল। আগামীতে আমরা ভালো করব। আমার নতুন এমপিওভুক্ত স্কুল, মাত্র চারজন শিক্ষক। এটা একটা বড় সমস্যা। এ কারণেই স্কুলটা জড়াজীর্ণ।মোস্তাফিজার রহমান, প্রধান শিক্ষক, ঘাষিপুর উচ্চবিদ্যালয়
ঘাষিপুর উচ্চবিদ্যালয়
এবার ফলাফল হতাশাজনক। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টি থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ ২০২৫ সালে এ বিদ্যালয় থেকে ২০ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১১ জন পাস করেছিল। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমে শূন্যে নেমে আসায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে ঘাষিপুর উচ্চবিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠি হলেও ২০২২ সালে এমপিওভুক্ত হয়। বিদ্যালয়টিতে মাত্র চারজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়মিত। শিক্ষকসংকটে বিদ্যালয়টিতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
যোগযোগ করা হলে ঘাষিপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজার রহমান বলেন, ‘এবারে শিক্ষার্থীরা একটু দুর্বল ছিল। আগামীতে আমরা ভালো করব। আমার নতুন এমপিওভুক্ত স্কুল, মাত্র চারজন শিক্ষক। এটা একটা বড় সমস্যা। এ কারণেই স্কুলটা জড়াজীর্ণ।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু পরীক্ষার সময় ভালো ফলের প্রত্যাশা করলেই হবে না; শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে কি না, শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান হচ্ছে কি না এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
তাঁদের মতে, দুটি বিদ্যালয়ের ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, একটি বিদ্যালয়ের ৯ শিক্ষকসহ পর্যাপ্ত জনবল থাকার পরও সব পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। তাই এর পেছনে শিক্ষকতা, ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততাসহ সামগ্রিক শিক্ষা পরিবেশের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
জানতে চাইলে পীরগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুর রহিম বলেন, যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির কেউ পাস করেনি, ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, শোকজ করা হবে।
বটতলী নমিরুল দাখিল মাদ্রাসা
এই মাদ্রাসায় পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও একজনও পাস করেনি। মাদ্রাসাটিতে ১৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১৪ জন এবং ৩ জন কর্মচারী রয়েছেন।
তারাগঞ্জ মাধ্যমকি শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম বলেন, বিধি মোতাবেক ওই মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।