
মুন্সিগঞ্জ শহরের একটি পুকুরে গোসল করতে নেমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে শহরের পশ্চিম দেওভোগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন পশ্চিম দেওভোগ এলাকার প্রয়াত মোস্তাকুর রহমানের ছেলে মো. লাবিব ওয়াহিদ (২১) এবং রাজধানীর মিরপুর এলাকার সেনা কর্মকর্তা মো. রিপনের ছেলে মো. আজওয়াদ তৌসিফ (২১)। দুজনই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ থেকে ১৪ শিক্ষার্থী লাবিবদের দাদা বাড়িতে বেড়াতে আসেন। সেখানে তাঁরা দুপুরের খাওয়া-দাওয়া করেন। বিকেল সোয়া চারটার দিকে লাবিব ওয়াহিদ, আজওয়াদসহ ছয়জন পুকুরে গোসল করতে নামেন। গোসলের এক পর্যায়ে লাবিব ও আজওয়াদ পানিতে ডুবে যান। পরে স্থানীয় ও অন্য শিক্ষার্থীরা দুজনকে ২০-২৫ মিনিট পর উদ্ধার করে জ্ঞানহীন অবস্থায় মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে ওই দুই ছাত্রকে আমাদের হাসপাতালে আনা হয়। বিভিন্নভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখি, ওই দুই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন।’
চিকিৎসক আরও বলেন, ‘মৃত্যুর কারণ হিসেবে জেনেছি, পানিতে ডুবে মারা গেছে। তবে থানা–পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পর, পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালে রেখেছেন।’
মরদেহ হাসপাতালে আনার পর থেকে সঙ্গে থাকা অন্য শিক্ষার্থীরা ভিড় জমান। এ সময় নিহত শিক্ষার্থীদের এক সহপাঠী আরেফিন জানান, ‘খাওয়াদাওয়া শেষে আমরা বসে ছিলাম। আজওয়াদ, লাবিরা পানিতে গোসল করছিল। সে সময় গোসলে নামা অন্য বন্ধুরা বলছিল, লাবিবকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা দূর থেকে দেখছিলাম, লাবিব ভাসছে আবার ডুবছে। আমরা পানিতে নেমে লাবিবকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি। এরপর দেখি আজওয়াদ আমাদের সঙ্গে নেই। পরে পুকুরে খোঁজাখুঁজি করে জাওয়াদকে ডুবে থাকা অবস্থায় পাই।’
প্রত্যক্ষদর্শী নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বন্ধুর আমন্ত্রণে ঢাকা থেকে ১৪ জন এবং মুন্সিগঞ্জের আরও ৬ জন বন্ধু দেওভোগ এলাকায় এসেছিলাম। লাবিব সাঁতার জানত। আজওয়াদ জানত না। কিন্তু পুকুরে ডুবে আমাদের বন্ধুরা মারা যাবে, আমরা ভাবতেও পারিনি।’
মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম রাত পৌনে ৯টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ বর্তমানে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল রয়েছে। আমরা চাচ্ছি তাদের ময়নাতদন্ত করতে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে ডুবে শিক্ষার্থীদের মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রকৃত ঘটনা ময়নাতদন্তের পরে বোঝা যাবে।