
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে চারজন ছিলেন নারী। তাঁদের তিনজন দুটি রাজনৈতিক দলের সদস্য, অন্যজন ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচনে চারজনই জামানত হারিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে এবার ২৫টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছিল। বেশি প্রার্থী দেয় বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে এসব দলের কোনো নারী প্রার্থী ছিল না। দুটি আসনে বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও একটি আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ নারী প্রার্থী দেয়। এ ছাড়া এক নারী অংশ নেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।
নির্বাচনে দুজন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-খুলশী-হালিশহর) আসনে। তাঁরা হলেন বাসদের (মার্ক্সবাদী) আসমা আক্তার এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সাবিনা খাতুন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে নির্বাচনে প্রার্থী হন বাসদের (মার্ক্সবাদী) দীপা মজুমদার। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন জিন্নাত আকতার।
ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ভোট পড়েছে ৩৪ লাখ ১০ হাজার ৭৭৫। যে তিন আসনে নারী প্রার্থী ছিলেন, সেখানে প্রদত্ত ভোট ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৩। এর মধ্যে প্রায় ৯২ ভাগ ভোট বা ৫ লাখ ৯৭ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। চার নারী প্রার্থীর মোট ভোট ১ হাজার ৭৭২।
কে কত ভোট পেলেন
চট্টগ্রাম-১০ আসনে এবার ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ১৫৪। ১ লাখ ২২ হাজার ৯৭৪ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সাঈদ আল নোমান। বাসদের (মার্ক্সবাদী) আসমা আক্তার পেয়েছেন ৩০৫ এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের সাবিনা খাতুন পেয়েছেন ৯৬০ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোটের ১ শতাংশের কম পেয়েছেন তাঁরা।
চট্টগ্রাম-১১ আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৬৮২। ১ লাখ ১৫ হাজার ৯৯১ ভোট পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমানে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। এ আসনে বাসদের (মার্ক্সবাদী) দীপা মজুমদার পেয়েছেন ২৩১ ভোট। তিনিও মোট প্রদত্ত ভোটের ১ শতাংশের কম পেয়েছেন।
ভোটের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আমি একজন প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছি। অনেকে এই গুজবে বিশ্বাস করেছেন। এরপরও যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।জিন্নাত আকতার, স্বতন্ত্র প্রার্থী, চট্টগ্রাম-২
চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের ১২টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। দুটিতে জয় পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-২ আসনে ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১৩। এর মধ্যে বিএনপির সরোয়ার আলমগীর ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোটে এগিয়ে আছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আকতার পেয়েছেন ২৭০ ভোট। মোট প্রদত্ত ভোটের ১ শতাংশের কম পেয়েছেন তিনি। অন্য তিন নারী প্রার্থীর মতো তিনিও জামানত হারাচ্ছেন।
‘মাঠে ছিলাম, সামনেও থাকব’
নির্বাচনে প্রচারণে শুরু পর এই চারজন প্রার্থী নিজেদের প্রচারণায় ছিলেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের কাছে সবার আগে ছুটেছেন তাঁরা। জানতে চাইলে একমাত্র স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী জিন্নাত আকতার বলেন, ‘ভোটের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে আমি একজন প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছি। অনেকে এই গুজবে বিশ্বাস করেছেন। এরপরও যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’
যে তিন আসনে নারী প্রার্থী ছিলেন, সেখানে প্রদত্ত ভোট ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৩। এর মধ্যে প্রায় ৯২ ভাগ ভোট বা ৫ লাখ ৯৭ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। চারজন নারী প্রার্থীর মোট ভোট ১ হাজার ৭৭২।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য তিন প্রার্থী দুটি রাজনৈতিক দলের অংশ। তাঁরা জানান, নির্বাচনের ফলাফল সবাই মেনে নিয়েছেন। পরাজিত হলেও জনগণের জন্য তাঁরা কাজ করে যাবেন। অধিকার আদায়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই মাঠে থাকবেন।
জানতে চাইলে নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি আসমা আক্তার বলেন, ‘আমরা সব সময় জনগণকে নিয়েই মাঠে ছিলাম। ভোটের ফলাফলে একজন জিতবেন, এটিই নিয়ম। তবে আমরা মাঠে আগেও ছিলাম, সামনেও থাকব। অধিকার আদায়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সংগ্রাম করে যাব।’