হবিগঞ্জ বিএনপির সম্মেলন

প্রকাশ্য হচ্ছে দলীয় কোন্দল

৬ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন ডাকা হয়েছে। এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে একটি পক্ষ।

হবিগঞ্জে জেলা বিএনপির সম্মেলন ঘিরে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্য হয়ে উঠেছে। একটি পক্ষ সম্মেলন করতে চাইলেও অপর অংশ এটা বাতিল করে পুনরায় উপজেলা কমিটি গঠন ও ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবি তুলেছে। সম্মেলনের পক্ষ-বিপক্ষ নিয়ে দুই পক্ষই এখন পাল্টাপাল্টি নানা কর্মসূচি দিয়ে উত্তপ্ত করে তুলেছে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর হবিগঞ্জ পৌরসভার মাঠে জেলা বিএনপির সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সম্মেলন পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্মেলনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী গত রোববার ছিল সভাপতি, সহসভাপতি, সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ পাঁচটি পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিন। ওই দিন পাঁচটি পদে মোট ৩০ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। আজ বুধবার মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ। বিএনপির দুই পক্ষই পাঁচটি পদের বিপরীতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ফলে দুটি প্যানেলে রূপ ধারণ করেছে।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে সম্মেলনের পক্ষে-বিপক্ষে দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দলটির একাংশের নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের পাশ কাটিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক জি কে গউছ এই সম্মেলনের আয়োজন করছেন। তিনি নিজে সভাপতি প্রার্থী হয়ে পছন্দের লোকজন নিয়ে উপজেলা কমিটি গঠন ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছেন, যা নিয়মনীতিতে পড়ে না। অন্যদিকে জি কে গউছের পক্ষের নেতা-কর্মীদের দাবি, তাঁদের প্রতিপক্ষ সম্মেলনে সরাসরি ভোটে পরাজয়ের ভয়ে এ সম্মেলনের বিরোধিতা করছেন।

আমরা এ সম্মেলনের আগে পুনরায় উপজেলা কমিটি গঠন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বাতিল ও ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবিতে এক হয়েছি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে।
আহমুদুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি

এ সম্মেলনের পক্ষে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক জি কে গউছসহ বড় একটি অংশ। এ সম্মেলন বাতিল করে উপজেলা কমিটি পুনরায় গঠন ও কাউন্সিলর তালিকা পুনরায় গঠনের পক্ষে জেলা বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া, সাবেক নারী সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক, মো. আহমুদুর রহমান (আবদাল), অধ্যাপক এনামুল হক, আব্বাস উদ্দিন ও কামাল উদ্দিন সেলিনের নেতৃত্বে আরও একটি অংশ।

এদিকে সম্মেলন বাতিলের দাবিতে গত সোমবার বিকেলে বিএনপির একাংশের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকায় সমবেত হন। এতে সভাপতিত্ব করেন শাম্মী আখতার। পরে তাঁরা শহরে এক বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলে তাঁরা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছের বিরুদ্ধে এবং সম্মেলন বাতিলের নানা স্লোগান দেন। পাশাপাশি সোমবার ও রোববার একই দাবিতে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বাহুবল ও চুনারুঘাট উপজেলায় ঝাড়ুমিছিল বের করেন দলটির নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া বানিয়াচং উপজেলা কমিটি একই দাবি জানিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।

অপর দিকে সম্মেলনের পক্ষে জেলা বিএনপি নেতা জি কে গউছের সমর্থকেরা গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ মিছিল নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। সোমবার একাংশের বিক্ষোভের পাল্টা শক্তি দেখাতে জি কে গউছ সমর্থকদের এ কর্মসূচি পালন করেছেন।

বানিয়াচং উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তফা আল হাদী প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা উপজেলা বিএনপির সম্মেলনে নির্বাচিত পাঁচজনসহ ১০১ সদস্যের কমিটি গঠন করে গত সপ্তাহে জেলা কমিটির কাছে জমা দেন। কিন্তু দেখা গেছে, জি কে গউছ এই কমিটির ১২ জনের নাম পরিবর্তন করে তিনি নিজের পছন্দের লোকজন দিয়ে এ কমিটি গঠন করেন।

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা ও নবীগঞ্জ উপজেলা ছাড়া সব কটি ইউনিট গঠন করেছি সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। যাঁরা সম্মেলনের বিরোধিতা করছেন, তাঁদের ভয় সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁরা নেতৃত্বে আসতে পারবেন না।
এনামুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি

জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক চিকিৎসক আহমুদুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, জি কে গউছ নিজে সভাপতি প্রার্থী। নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তিনিই এর অনুমোদন দিয়েছেন। জেলা আহ্বায়কের পদ স্থগিত থাকায় জেলা যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে জি কে গউছ নিজের পছন্দমতো এ কমিটি গঠন করেন। তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো জেলায় কমিটি নিয়ে অসন্তোষ আছে নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তিনি বলেন, ‘এসব কারণে আমরা এ সম্মেলনের আগে পুনরায় উপজেলা কমিটি গঠন, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বাতিল ও ভোটার তালিকা প্রণয়নের দাবিতে এক হয়েছি। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক জি কে গউছের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত দলের অপর যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক বলেন, ‘জেলার ৯টি উপজেলা, ৬টি পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিট আছে। এর মধ্যে আমরা আজমিরীগঞ্জ উপজেলা ও নবীগঞ্জ উপজেলা ছাড়া সব কটি ইউনিট গঠন করেছি সম্মেলনের মধ্য দিয়ে। যাঁরা সম্মেলনের বিরোধিতা করছেন, তাঁদের ভয় সম্মেলনে মাধ্যমে তাঁরা নেতৃত্বে আসতে পারবেন না।’