ভাইকে হারিয়ে বড় বোন রোশনা আক্তারের আহাজারি। ইউসুফপুর, তিতাস, কুমিল্লা। ৩ অক্টোবর ২০২৬
ভাইকে হারিয়ে বড় বোন রোশনা আক্তারের আহাজারি। ইউসুফপুর, তিতাস, কুমিল্লা। ৩ অক্টোবর ২০২৬

টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় কিলঘুষি ছেলের, প্রাণ গেল বাবার

মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রাজন (২৮) একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। এক বছর আগে চাকরিটি ছেড়ে দেন। এরপর বাবার টাকায় চলতেন। আজ শনিবার দুপুরের মমিনুল তাঁর বাবা নুরুল হক ভূঁইয়া ওরফে শান্তির (৬৫) কাছে ব্যবসা করার জন্য এক লাখ টাকা চান।

নুরুল হক ছেলেকে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মমিনুল বাবাকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকেন। একটি ঘুষি বুকে লাগলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নুরুল হক। প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছেলের হাতে স্বামী নিহত হওয়ার ঘটনার এই বর্ণনা দেন রোশনারা বেগম। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি ইউনিয়নের ইউসুফপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ছেলে মমিনুলকে আটক করেছে তিতাস থানা–পুলিশ।

নুরুল হকের মরদেহ হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে এসে কড়িকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. রাসেল ভূঁইয়াকে জানান প্রতিবেশীরা। তিনি বিষয়টি থানা–পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে তিতাস থানা–পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত নুরুল হকের স্ত্রী রোশনারা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী একসময় জাহাজে চাকরি করতেন। দীর্ঘদিন জাহাজে থাকতেন। তখন তিনি দুই ছেলেকে কোলে-পিঠে মানুষ করেছেন। স্বামী জাহাজের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর বাড়িতে এসে কৃষিকাজ শুরু করেন। পাশাপাশি গরু পালন করতেন। ছোট ছেলে মহিতুল ইসলাম লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি কেম্পানিতে চাকরি করছেন।

রোশনারা বেগম বলেন, বড় ছেলে মমিনুলকে সাত বছর আগে বিয়ে করিয়েছিলেন। সুলতান ওমর নামের তাঁর চার বছরের একটি ছেলেও আছে। মমিনুলের সঙ্গে বিচ্ছেদ হলে তাঁর স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করেন। ছেলেটিকে স্ত্রীর মা-বাবা লালন–পালন করছেন।

‘ঘরে পুত অয়নাই, যমদূত অইছে’

স্বামীর জন্য বিলাপ করতে করতে রোশনারা বলেন, ছেলেরে মনে হয় জিনে ধরেছে। এ কারণে তাঁর এমন সহজ-সরল স্বামীকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, ‘ঘরে পুত অয়নাই, যমদূত অইছে।’

নিহত নুরুল হকের চাচাতো ভাই আবদুল বারেক ভূঁইয়া বলেন, নুরুল হক ভূঁইয়া খুবই সহজ-সরল ভালো মনের মানুষ ছিলেন।

বিলাপ করতে করতে নুরুল হক ভূঁইয়ার বড় বোন রোশনা আক্তার বলেন, তাঁরা তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নুরুল হক ছিল তৃতীয়। ভাইকে ভাইয়ের ছেলে শেষ করে দিল। তিনি ভাতিজার ফাঁসি চান।

তিতাস থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল লতিফ প্রথম আলোকে বলেন, মমিমুল হককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।