
মাদকের টাকার জন্য নাঈম ইসলাম (২৮) নামের এক যুবক প্রায়ই মারপিট করতেন বলে অভিযোগ তোলেন মা–বাবা। তাঁদের দাবি, বাড়ির জিনিসপত্রও বিক্রি করে মাদক গ্রহণ করতেন ছেলে। তাঁর এমন অবস্থায় অতিষ্ঠ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেন বাবা রেজাউল করিম। পরে কাউন্সেলিং করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
নাঈম ইসলামকে দুই মাসের কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন রাজশাহীর বাগমারার ইউএনও সেলিম আহমেদ।
সাজাপ্রাপ্ত নাঈম ইসলাম উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের নরসিংহপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে।
ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন নাঈম ইসলাম। পরিবারের লোকজন তাঁকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। মাদকের টাকা জোগাড়ের জন্য তিনি গোপনে বাড়ির জিনিসপত্র বিক্রি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের মারপিট করেন। নিরুপায় হয়ে গতকাল ইউএনওর কাছে ছেলের শাস্তি চেয়ে আবেদন করেন বাবা রেজাউল করিম। পরে ইউএনও সেলিম আহমেদ পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নরসিংহপুর এলাকায় যান। সেখান থেকে নাঈমকে মাদকসহ আটক করা হয়।
আটকের পর নাঈমের সামনে মাদকের ভয়াবহতা এবং পরিবারের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরেন ইউএনও। নেশা ছাড়লে তাঁকে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। এ সময় নাঈম নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করলে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দণ্ড দেওয়া হয়। কারাভোগের পর বের হয়ে আর নেশা করবেন না বলেও আদালতকে জানান নাঈম।
হাতকড়া পরা অবস্থায় নাঈম ইসলামকে ইউএনওর কাউন্সেলিং ও কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
নাঈমের বাবা রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্যার (ইউএনও) ভালো কাজ করেচে, এবার বেটা বুজেছে। জেল খাইটা আইসা সে আর নেশা করবে না বুলেচে।’
গতকাল সন্ধ্যায় নাঈমকে থানায় হস্তান্তর করা হয় জানিয়ে বাগমারা থানার ওসি বলেন, আজ সোমবার সকালে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।