শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নবীন শিক্ষার্থীকে মেসে র‍্যাগিং

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) চার নবীন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে ছয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোররাত ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতবা আলী হলসংলগ্ন রিপন ছাত্রাবাসে (মেস) এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

অভিযোগ দেওয়া চার শিক্ষার্থী হলেন সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের নাসির উদ্দিন, শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের গোলাম মোর্শেদ ও শাহাদাত হোসেন সাগর ও বাংলা বিভাগের জিয়াউর রহমান। তাঁরা ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের হাসান গোলজার রহমান, ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের সোলাইমান কবির, ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের সাব্বির রহমান ও একই শিক্ষাবর্ষের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের মারুফ হাসান ও আবু রায়হান।

ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত সবাই রিপন ছাত্রাবাসের একই মেসে থাকেন। নবীন শিক্ষার্থীরা গত জুন থেকে সেখানে থাকছেন।

ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার রাতে আবু রায়হানের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয়। এরপর ওই শিক্ষার্থীরা নবীনদের ভোর পর্যন্ত র‍্যাগ দেন।

আরেক ভুক্তভোগী জিয়াউর রহমান বলেন, মেসের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রথমে আলোচনা হয়। পরে কিছু র‍্যাগিংয়ের ঘটনা ঘটে। তাঁরা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযুক্ত সোলাইমান কবির প্রথম আলোকে বলেন, ওই দিন মেসের কয়েকজন মিলে নিয়মকানুন নিয়েও আলোচনা করেন। একপর্যায়ে সাব্বির তাঁর বিভাগের জুনিয়রদের সঙ্গে মজা করছিলেন। নাসির সেখানে থাকায় সাব্বির তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে বলছিলেন। একপর্যায়ে সাব্বির নাসিরের ওপর রেগে যান। পরে নাসিরকে বুঝিয়ে হাসিখুশি করা হয়েছিল। বিষয়টি সেখানেই সমাধান করা হয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ অভিযোগের বিষয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের নিয়ে আজ জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।