
গ্যাস–সংকট কাটিয়ে প্রায় আট মাস পর জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় (জেএফসিএল) পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত তিনটা থেকে সার উৎপাদন শুরু হয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. ফজলুল হক।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস-সংকটের কারণে ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে দেশের সবচেয়ে বড় ইউরিয়া সার কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। মাঝে ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কারখানায় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। ত্রুটি মেরামতের পর ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা থেকে আবার উৎপাদন শুরু হয়।
পরে ওই বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আবার সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের যান্ত্রিক ত্রুটির মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার পর ৯ মার্চ সকাল থেকে কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়, তবে গ্যাসের চাপ না থাকায় আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ২৩ মাস পর ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর আবার উৎপাদন শুরু হয়।
এরপর গ্যাস-সংকটের কারণে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ৮ মাস পর গতকাল রাতে আবারও পুরোপুরিভাবে উৎপাদন শুরু হয়েছে এই সার কারখানায়।
জেএফসিএল মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) ফজলুল হক বলেন, গ্যাস-সংকটের কারণে প্রায় আট মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ ছিল। গতকাল গভীর রাত থেকে আবারও পুরোপুরি উৎপাদন শুরু হয়েছে।
ফজলুল হক বলেন, বর্তমানে যে গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে কারখানাটিতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন হবে। গ্যাসের চাপ আরও বাড়লে দৈনিক উৎপাদন ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন পর্যন্ত হতে পারে।
সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের তারাকান্দিতে দেশের বৃহত্তম দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী যমুনা সার কারখানা অবস্থিত। প্রতিদিন ১ হাজার ৭০০ টন উৎপাদনসক্ষমতা নিয়ে ১৯৯১ সালে এ কারখানায় সার উৎপাদন শুরু হয়। কারখানাটি থেকে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলাসহ মোট ১৯ জেলায় সার সরবরাহ করা হয়।