হবিগঞ্জের মাধবপুরে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্যের মধ্যস্থতায় সালিস হয়েছে। সেখানে মামলা না করার পরামর্শ দিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারকে ‘ক্ষতিপূরণ’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবারের ওই সালিসে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানসহ এলাকার লোকজন। আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত ওই ঘটনায় থানায় কোনো মামলা হয়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হানিফ মিয়া (২৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। হানিফ মিয়ার স্ত্রী প্রবাসে থাকেন। তিনি মেয়েকে নিয়ে বেশির ভাগ সময় শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। গত ২০ আগস্ট দুপুরে বাড়ির লোকজনের অনুপস্থিতির সুযোগে হানিফ কৌশলে ওই কিশোরীকে তাঁর ঘরে ডেকে আনেন এবং ধর্ষণ করেন। মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি তার মাকে জানায়। তাঁরা আত্মীয়স্বজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে হানিফ সেখান থেকে পালিয়ে যান। ওই দিন বিকেলে মেয়েটিকে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর গত ২৩ আগস্ট সে বাড়িতে ফিরে আসে।
গত শুক্রবার স্থানীয় ইউপি সদস্য আবেদুর রহমানের মধ্যস্থতায় একটি সালিস বৈঠক হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন পাশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল মিয়াসহ স্থানীয় লোকজন। সালিসে ভুক্তভোগী কিশোরীকে ৯০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক মেয়েটির মাকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি ৭০ হাজার টাকা ১০ সেপ্টেম্বর দেওয়ার তারিখ ধার্য করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, ‘খাল্লা বাড়িত আমার মাইয়ারে পুশলাইয়া নিইয়া ধর্ষণ করছে হানিফে। আমরা মামলা করবাম চাইসলাম। গ্রামের মুরব্বিরা দিল না। তারা খয় ক্ষতিপূরণ লইয়া দিব। ইউপি সদস্য আবেদুর রহমানসহ কয়েকজন সালিস কইরা ওই ৯০ হাজার টেকা ধার্য করছে। ওই টেকার মাঝে আমি ২০ হাজার টেকা পাইছি।’
সালিসের বিষয়ে ইউপি সদস্য আবেদুর রহমান বলেন, ‘মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়নি; তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। দুটি পক্ষই অসহায় ও গরিব। এ কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা তাঁদের মামলা-মোকদ্দমায় না জড়িয়ে ওই সালিসের আয়োজন করি। এতে আমাদের পাশের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামাল মিয়াসহ স্থানীয় অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাই ৯০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ ধার্য করে দেন।’
দুটি পক্ষই অসহায় ও গরিব। এ কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা তাঁদের মামলা-মোকদ্দমায় না জড়িয়ে ওই সালিসের আয়োজন করি।আবেদুর রহমান, ইউপি সদস্য
ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধ স্থানীয় সালিসের মাধ্যমে বা অর্থের বিনিময়ে ‘মীমাংসা’ করা যায় কি না জানতে চাইলে আবেদুর রহমান বলেন, সবকিছু আইনে হয় না। দুটি পরিবারেই আর্থিকভাবে অসহায় ও দিনমজুর মানুষ। মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা করার মতো সামর্থ্য তাদের নেই।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জামাল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত থানায় অভিযোগ করা হয়নি। তাঁরা আইনগত সহযোগিতা চাইলে পুলিশ তাঁদের পাশে থাকবে। সালিসের বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।