
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মেহেদী হাসান (২০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করায় শিশুটির মামার ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে গ্রেপ্তার তরুণের বাবার বিরুদ্ধে।
ধর্ষণের অভিযোগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে মুরাদনগর থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা। এরপর আজ শুক্রবার দুপুরে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মেহেদী উপজেলার ধামঘর ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেন ওরফে দুলালের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শিশুটি নানার বাড়ি ছিল। দুপুরে সে গোসল করে ঘরে ফেরার সময় মেহেদী হাসান তাকে নির্জন একটি স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘরে ফিরে ওই শিশু ঘটনাটি তার খালাকে জানায়। তখন দ্রুত তাকে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে শিশুটির মামার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তাঁকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিশুটির খালা বলেন, গতকাল দুপুরে গোসল শেষে ঘরে ফেরার সময় ৫০ টাকার লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন ওই তরুণ। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর ভাই গ্রামের দুই–তিনজনকে নিয়ে অভিযুক্ত তরুণের বাড়ি যান। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তির বাবা দাবি করেন, তাঁর ছেলে এমন কাজ করতে পারে না। এ নিয়ে সেখানে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত তরুণের বাবা ভাঙা কাচের টুকরা দিয়ে তাঁর ভাইয়ের পায়ে পোঁচ দেন। এতে তাঁর বাঁ পা কেটে গেছে। তাৎক্ষণিক তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসরুরুল হক বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে আটক করা হয়। গতকাল রাতে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আজ দুপুরে আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, শিশুটির চিকিৎসা চলছে। তার মামার ওপর হামলার ঘটনাটিও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।