
১৫ দিন আগে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মো. কামরুল হাসান চৌধুরী। দুর্ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে থাকতে না পারলেও ভোট দেওয়ার দৃঢ় সংকল্প ছিল তাঁর। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে এসে বাড়ির পাশের মলিয়াইশ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন তিনি। কামরুল হাসান মিরসরাই উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়নের মলিয়াইশ গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। তিনি মিঠানালা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব।
কামরুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘১৫ দিন আগে নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার পথে মিঠানালা ইউনিয়নের আলিমপুর এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। এবারের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রচারণায় পুরো সময় থাকতে না পারলেও যেকোনো উপায়ে ভোট দেওয়ার সংকল্প ছিল। তাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকের অনুমতি নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে এসে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছি।’
এ বিষয়ে একই এলাকার বাসিন্দা চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সরোয়ার উদ্দিন সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কামরুল হাসান মিরসরাই উপজেলার মিঠানালা ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব। কিছুদিন আগে নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ভোট দেওয়ার তীব্র ইচ্ছা থেকে চিকিৎসকের বিশেষ অনুমতি নিয়ে আজ অ্যাম্বুলেন্সের বেডে শুয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছে সে। বিষয়টি এলাকায় বেশ আলোচিত হয়েছে।’
এ বিষয়ে মলিয়াইশ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. শাহ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘বেলা একটার দিকে এই কেন্দ্রে অসুস্থ এক ভোটার হাসপাতাল থেকে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন। তাঁর ভোট দেওয়ার বুথ কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় হওয়ায় আমরা বিপাকে পড়ি। পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে চারজন সহযোগী দিয়ে ওই ভোটারকে দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করি আমরা। এতে আমাদের কিছুটা কষ্ট হলেও ওই ভোটার ভোট দিতে পেরেছেন, এটি ভালো লেগেছে।’