মৌলভীবাজারে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার শেরপুর এলাকার আইনপুরে
মৌলভীবাজারে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার শেরপুর এলাকার আইনপুরে

একটি দল ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করে দিয়েছে: তারেক রহমান

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেশ গড়ার নির্বাচন, এমন মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘এরই মধ্যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। একটি রাজনৈতিক দল ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং শুরু করে দিয়েছে। জনগণকে এখন বলছে, আপনারা অমুককে ক্ষমতায় দেখেছেন, তমুককে দেখেছেন, এখন আমাদের দেখেন। এই রাজনৈতিক দলটিকে আমরা ৫০ বছর আগে দেখেছি, তাদের ভূমিকা কী ছিল। ’৭১ সালে তারা কাদের পক্ষ নিয়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের কারণে শহীদ হয়েছেন। নতুন করে তাদের দেখার কিছু নেই।’

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে প্রস্তাবিত উপজেলা পরিষদ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এ কথা বলেন। মাগরিবের নামাজের পর জনসভা শুরু হয়। তারেক রহমান মঞ্চে আসেন বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে। পরে তিনি প্রায় আধা ঘণ্টা বক্তব্য দেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘এখন ওই দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা-বোনের জাতীয়তার সনদ নম্বর গ্রহণ করছে। বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, ফোন নম্বর নিচ্ছে, টাকা পাঠাচ্ছে। এগুলোর খবর এখন সংবাদপত্রে উড়ে বেড়াচ্ছে। যারা নির্বাচনের আগেই এসব অসৎ কাজ করে, তারা আদর্শের দল কী করে? তারা কি মানুষের শাসন কায়েম করতে পারে?’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি, পাশের দেশে চলে যায় কেউ কেউ। আমরা গতকাল দেখেছি, একজন পালিয়েছে পিন্ডিতে। কেউ যায় দিল্লি, কেউ যায় পিন্ডি। কিন্তু বিএনপি রয়ে গেছে এ দেশে। একমাত্র শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া প্রমাণ করে গেছেন, এ দেশ থেকে দুর্নীতিকে কেমন করে দমন করতে হয়। এটা আমাদের কথা নয়, আন্তর্জাতিক দুর্নীতি সংস্থার কথা।’ তিনি বলেন, বিএনপি আবার ক্ষমতায় গেলে জনগণের শাসন কায়েম করবে। জনগণের কাছে জবাবদিহি তৈরি করবে।

পরে হবিগঞ্জের চারটি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাম্মী আক্তারের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী রেজা কিবরিয়া, হবিগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন, হবিগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী জি কে গউছ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়সল প্রমুখ।

‘মানুষ বুঝতে পারে, কারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে’

হবিগঞ্জের জনসভায় যোগদানের আগে বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকার আইনপুর খেলার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তারেক রহমান।

জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘মানুষ এখন বুঝতে পারছে, কারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। মানুষ বুঝতে পারছে, এটা তাদের চালাকি, তাদের ষড়যন্ত্র ধরে ফেলেছে। তখন সরকারকে গিয়ে বলছে, নিরাপত্তা দিতে হবে। প্রটোকল দিতে হবে। আমি সরকারকে অনুরোধ করব, আমাদের যে ধরনের নিরাপত্তা দেন, তার চেয়ে তাদের প্রটোকল তিন ডাবল করে দেন। কারণ, তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। মানুষ এটা জানতে পেরে তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হচ্ছে।’

হ‌বিগ‌ঞ্জের শা‌য়েস্তাগ‌ঞ্জের সমা‌বে‌শে বক্তব্য দিচ্ছেন তা‌রেক রহমান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়

তারেক রহমান বলেন, ‘১৫-১৬ বছর ধরে তথাকথিত নির্বাচনের নামে কতগুলো তামাশা হয়েছে। একবার আমি-ডামি, একবার নিশিরাতের, আরেকবার ভোট চুরির নির্বাচন হয়েছে। জনগণকে ভোট দিতে দেয়নি। আপনারা ভোট দিতে পারেন নাই।’

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট একটা দল দেশ থেকে পালিয়ে গেছে। এই দল মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। কথা বলতে দেয় নাই। কেউ অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করলে গুম করত, ধরে নিত, হত্যা করত, গায়েবি মামলা দিত, মিথ্যা মামলা দিত। শুধু বাক্স্বাধীনতা হরণ করেছে, ভোট ডাকাতি করেছে। গত ১৬ বছর কোনো উন্নয়নকাজ হয় নাই। কোনো উন্নয়ন তারা করে নাই। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ায় মানুষ দুঃখ-কষ্টের কথা বলতে পারেনি। সংসদ ভবনে গান হয়েছে, প্রশংসা হয়েছে। এমন সব কাজ হয়েছে, যা দেশের মানুষের কাম্য নয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে ঢাকা থেকে সিলেটে আসতে আট ঘণ্টা লাগে। লন্ডন যেতেও এত সময় লাগে না। আমি আসতে দেখলাম, রাস্তা ভাঙা। স্কুল-কলেজ, হাসপাতালের একই অবস্থা। আগামী দিনে এই অবস্থার পরিবর্তন চাইলে ধানের শীষের সরকার লাগবে। যখনই ধানের শীষের সরকার ছিল, তখনই উন্নয়ন হয়েছে। নারী, কৃষক সবার উন্নয়ন হয়েছে।’
বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছি আমরা। এই দেশের সব ছাত্র-জনতা, সব শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হলো স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন। বহু মানুষের আত্মত্যাগে দেশ এ জায়গায় এসেছে। এখন স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে হবে। মানুষের কথা বলার অধিকার দিতে হবে। অতীতে যে স্বৈরাচার অন্য এক দেশের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছিল। দেশের ক্ষমতার মালিক জনগণ, মালিকের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে চাই।’

মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউস, সিলেট বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, জেলা জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা জামিউল আহমদ আনসারি প্রমুখ বক্তব্য দেন। পরে জেলার চারটি আসনের বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।