নিখোঁজ
নিখোঁজ

১০ দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী, সহপাঠীর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ

নড়াইল সদর উপজেলায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক কিশোরী ১০ দিন ধরে নিখোঁজ। এ ঘটনায় অপহরণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও ওই কিশোরীর কোনো হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। লাপাত্তা আসামিরাও। ফলে উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের।

আজ বুধবার দুপুরে কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাকে না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন পরিবারটির সদস্যরা। তাঁদের দাবি, ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে নিজ গ্রাম থেকে ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনার পরের দিন পাঁচজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন কিশোরীর ভাই।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে বিদ্যালয়ে ওই কিশোরীর সহপাঠী (ক্লাসমেট) এক ছাত্রকে। বাকি চার আসামি হলেন ওই ছাত্রের মা, বোন, ভগ্নিপতি ও প্রতিবেশী বন্ধু।

কিশোরী অপহরণ মামলাটি তদন্ত করছেন নড়াইল সদর থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. মাসুদ রানা। আজ বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে প্রথম আলোকে তিন বলেন, ‘ওই মামলায় এক আসামিকে আমরা গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছিলাম। অন্য দুজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। পরে গত রোববার তিনজন (অভিযুক্ত কিশোরের মা, বোন ও ভগ্নিপতি) আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছেন। প্রধান দুই আসামির (এক নম্বর আসামি অভিযুক্ত কিশোর ও তার বন্ধু দুই নম্বর আসামি) অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ কারণে তাদের ধরা বা কিশোরীকে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। আমরা তাদের খুঁজছি।’

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিত সহপাঠী কিশোর। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কিশোরীকে অপহরণের পরিকল্পনা করে সে। বিষয়টি কিশোরী তার পরিবারকে জানালে ওই কিশোরের মা, বোন ও ভগ্নিপতিকে অবহিত করা হয়। কিন্তু তাঁরা অভিযোগ আমলে নেননি। বরং ওই কিশোরীর সঙ্গে প্রেম করতে অভিযুক্ত কিশোরকে উদ্বুদ্ধ করেন। একপর্যায়ে পরিবারের ইন্ধন এবং এক বন্ধুর সহযোগিতায় ১৩ সেপ্টেম্বর বেলা দুইটার দিকে ওই কিশোরী বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে তাকে অপহরণ করে সহপাঠী ছাত্র।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অপহরণের পর থেকেই ওই কিশোরীকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে অভিযুক্ত কিশোরের বাড়িতে গিয়ে সন্ধান চায় কিশোরীর পরিবার। এ সময় মেয়েকে ফেরত দেবে বলেন জানান ওই কিশোরের মা–বোন। কিন্তু ফেরত না দিয়ে কৌশলে কিশোরীকে নিয়ে পালাতে ওই কিশোর ও তার বন্ধুকে সহায়তা করেন তাঁরা। একপর্যায়ে কিশোরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে আজ দুপুরে মামলার আসামিদের বাড়িতে যান এই প্রতিবেদক। কিন্তু তাঁদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। আসামিরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।