
পাবনার সাঁথিয়ায় পৌর বাজারসংলগ্ন অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলা প্রশাসন ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। এর ফলে ওই হাটের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাঁথিয়া পৌরসভার উদ্যোগে পৌর বাজারসংলগ্ন ইছামতী নদীর তীরের পাশে খোলা জায়গায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত সোমবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে হাট ইজারার নিলাম আয়োজন করা হয়। নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ২৬ ব্যক্তি শর্ত অনুযায়ী জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে জামানত জমা দেন। তবে নিলাম চলাকালে অংশগ্রহণকারী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ রায়হান নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করেন।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় আবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে নিলামের আয়োজন করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিএনপির নেতা–কর্মীরা হলরুম ত্যাগ করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আবদুল করিম বলেন, পৌরসভার রাজস্ব বৃদ্ধির স্বার্থে তাঁরা নিলামে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। এ সময় জামায়াতের নেতা–কর্মীরা তাঁদের গালাগাল ও হুমকি দেন। তাঁরা নিলামে অংশ না নিয়েই ফিরে আসেন।
পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমানের প্রতিনিধি ও সাঁথিয়া উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মেহেদী হাসান বলেন, প্রশাসনের একটি অংশের যোগসাজশে অস্থায়ী পশুর হাটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না বলেন, ইছামতী নদীর ডাইকের (মাটি ফেলে যে পাড় বানানো হয়েছে) পাশের অস্থায়ী পশুর হাট এখনো কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। হাটকে কেন্দ্র করে ইজারাপ্রত্যাশী পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ঈদুল আজহার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এ সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, সভা-সমাবেশ, মিছিল, মাইকিং, আগ্নেয়াস্ত্র বা দেশি অস্ত্র বহন ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ থাকবে।